কর্ণাটকের রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা। গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে দিল্লিতে কংগ্রেস হাইকমান্ডের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের দফায় দফায় বৈঠকের পর রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে বলে খবর। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৭৮ বছর বয়সী সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে সরিয়ে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা পাকা করে ফেলেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। আর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে কর্ণাটকের মসনদে বসতে চলেছেন ৬৪ বছর বয়সী ডিকে শিবকুমার।
২০২৩ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে শিবকুমারের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তবে সেই সময় দলের অন্দরের জটিল সমীকরণে সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। সেই সময় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, আড়াই বছর করে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি অলিখিত চুক্তি হয়েছিল। যদিও গত তিন বছর ধরে সিদ্দারামাইয়াই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ইদানীং দলের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসায় হাইকমান্ড কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৮ সালের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই কংগ্রেস হাইকমান্ড এই পরিবর্তন আনছে। শিবকুমারের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের নিচুতলার কর্মীদের ওপর তাঁর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে বাজিমাত করতে চাইছে কংগ্রেস। গত কয়েক মাসে শিবকুমারের দিল্লি সফর এবং বিভিন্ন জনসভায় তাঁর অবস্থান স্পষ্টতই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এমনকি শিবকুমারের সাম্প্রতিক আরএসএস সংক্রান্ত মন্তব্য দলকে অস্বস্তিতে ফেললেও, হাইকমান্ড তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই তুলে ধরতে আগ্রহী।
যদিও কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অন্দরে এখনও এই রদবদল নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. ভেনুগোপাল জানিয়েছেন, দিল্লিতে বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ছিল আসন্ন রাজ্যসভা এবং বিধান পরিষদ নির্বাচন। নেতৃত্বের রদবদল নিয়ে সমস্ত খবরকে তিনি ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবলই ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল। কর্ণাটকে বিজেপির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব চিরতরে মেটাতে সিদ্দারামাইয়াকে রাজ্যসভায় সরিয়ে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসানোই এখন হাইকম্যান্ডের একমাত্র লক্ষ্য। সিদ্দারামাইয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে রাজ্যসভার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে কাজে লাগাতে চাইছে কংগ্রেস। সব মিলিয়ে, কর্ণাটকের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।





