করাচি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চরম বদলা পাকিস্তানের! আকাশপথে গুঁড়িয়ে দিল জঙ্গি ঘাঁটি

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত নয়, এই মুহূর্তে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে। করাচিতে সেনা জওয়ানদের ওপর হওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানের মাটিতে বড়সড় সামরিক অভিযান চালাল পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তাদের এই সুনির্দিষ্ট অভিযানে অন্তত ২৯ জন জঙ্গি খতম হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আফগান তালিবান সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ। করাচিতে অবস্থিত আধাসামরিক বাহিনী ‘সিন্ধ রেঞ্জার্স’-এর সদর দপ্তরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। বিস্ফোরণের পরপরই বেশ কয়েকজন সশস্ত্র জঙ্গি শিবিরে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পাকিস্তানের স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট ও অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্সের সঙ্গে জঙ্গিদের প্রায় ৯০ মিনিট ধরে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে ৪ জন পাকিস্তানি রেঞ্জার্স জওয়ানের মৃত্যু হয়। পাল্টা অভিযানে ৬ জন জঙ্গি নিহত হয় এবং আহত অবস্থায় এক আফগান নাগরিককে আটক করা হয়। নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-এর শাখা ‘জামাত-উল-আহরার’ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
করাচি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান সরকার আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, গ্রাউন্ড অপারেশন ও সুনির্দিষ্ট স্ট্রাইকের মাধ্যমে জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীর গোপন ডেরা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে পাক প্রশাসন দাবি করেছে।
তবে এই অভিযানে নিরীহ মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আফগান তালিবান। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের এই হামলায় জঙ্গিদের বদলে বহু সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি একে সরাসরি ‘আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত কয়েক বছর ধরেই ইসলামাবাদ এবং কাবুলের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান মাটি ব্যবহার করে টিটিপি-সহ বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত তাদের দেশে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে কাবুল বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছিল। এবার করাচি হামলার পর এই নতুন সামরিক অভিযান দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাতকে এক চরম ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সীমান্তে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।