ঝাড়খণ্ডের কয়লা খনির অন্ধকার গভীরে লুকিয়ে রয়েছে এক আশ্চর্য ইতিহাস। সম্প্রতি ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কয়লা খনি স্তরে এমন এক বাস্তুসংস্থানের (Ecosystem) প্রমাণ মিলেছে, যা আমাদের নিয়ে যায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি বছর আগের পৃথিবীতে। এই সময়কালটি মূলত ‘গোন্ডোয়ানা যুগ’ নামে পরিচিত, যখন পৃথিবীতে ডাইনোসরদের আধিপত্য শুরু হয়নি এবং আদিম স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চিহ্নও ছিল না।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের এই অববাহিকায় পাওয়া জীবাশ্ম এবং পাথরের স্তর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক সময় এই অঞ্চলটি ছিল বিশাল জলাভূমি এবং ঘন পর্ণমোচী অরণ্যে ঘেরা। এখানকার কয়লা আসলে সেই সময়কার বিশালাকার ফার্ন এবং ‘গ্লসোফটেরিস’ (Glossopteris) নামক উদ্ভিদের অবশেষ। এই আবিষ্কারটি কেবল ভূ-তাত্ত্বিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে ভারত একসময় দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত একটি অতি-মহাদেশের অংশ ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইকোসিস্টেম বা বাস্তুসংস্থানটি ধ্বংস হয়েছিল এক বিশাল জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে। মাটির নিচে চাপা পড়ে যাওয়া সেই ঘন জঙ্গলই আজ আমাদের বিদ্যুতের উৎস বা কয়লায় পরিণত হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের এই অনুসন্ধান বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, কারণ এটি পৃথিবীর বিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাচীন ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করবে।