লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে না হতেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসতেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার শ্রীরামপুরের এক সভা থেকে কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘বিজেপির নির্দেশে’ নেওয়া হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে না, তারা বিজেপির একটি বর্ধিত শাখা হিসেবে কাজ করছে। রাজ্যের দক্ষ অফিসারদের সরিয়ে দিয়ে প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে যাতে ভোটের ময়দানে বিজেপি সুবিধা পায়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার পশ্চিমবঙ্গকেই টার্গেট করা হচ্ছে? তাঁর মতে, এই ধরনের বদলি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর বড় আঘাত।
তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, যে অফিসাররা দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ সামলাচ্ছেন, ভোটের মুখে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “অফিসার বদলে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না। বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দেবেন।” অন্যদিকে, বিজেপি এই বদলিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থেই কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের এই পরিবর্তন নিয়ে এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি।