‘কমান্ডার-ইন-থিফ’ মন্তব্যে সুপ্রিম কোর্টে রাহুলের বিরাট জয়! থমকে গেল মানহানি মামলার বিচার

নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মানহানির মামলায় বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। মহারাষ্ট্রের নিম্ন আদালতে চলতে থাকা এই মামলার সমস্ত বিচার প্রক্রিয়ার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সাথে এই বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়ে মহারাষ্ট্র সরকার এবং মূল অভিযোগকারী বিজেপি নেতাকে নোটিশ পাঠিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এর আগে বোম্বে হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করতে অস্বীকার করায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি অপরেশ কুমার সিং-এর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক নির্দেশ প্রদান করে। পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত ২০১৮ সালে, বিতর্কিত রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছিল যে, এক জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে ‘কমান্ডার-ইন-থিফ’ এবং ‘কমান্ডার অফ থিভস’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেন। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি নেতা মহেশ শ্রীশ্রীমল মহারাষ্ট্রের গিরগাঁও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন।
অভিযোগকারীর মূল দাবি ছিল, রাহুল গান্ধীর এমন আপত্তিকর মন্তব্য কেবল দেশের প্রধানমন্ত্রীকেই অপমান করেনি, বরং ক্ষমতাসীন দল ও তার কোটি কোটি সমর্থকের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। নিম্ন আদালত সমন পাঠালে রাহুল গান্ধী সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন। তবে গত ৮ই সেপ্টেম্বর বোম্বে হাইকোর্ট সমন বাতিল ও মামলা খারিজের আবেদন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টে রাহুলের আইনজীবী জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে জানান যে, অভিযোগটি আইনত গ্রহণযোগ্যই নয়, কারণ রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্য বা এক্স (টুইটার) পোস্টে বিজেপি বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি খতিয়ে দেখতে রাজি হয়েছে এবং বোম্বে হাইকোর্টের পূর্বের নির্দেশ পর্যালোচনার পাশাপাশি নিম্ন আদালতের সমস্ত কার্যক্রমে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে। স্বাভাবিকভাবেই সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে কংগ্রেস শিবির।