কবি সুভাষ-বিমানবন্দর মেট্রো করিডরের অন্তিম কাজ! যানজট এড়াতে দেখে নিন নতুন রুট

কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন বা কবি সুভাষ-কলকাতা বিমানবন্দর মেট্রো করিডর প্রকল্পের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তৃণমূল সরকারের আমলের দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এবার এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অংশ—চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে গার্ডার বসানোর চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই কাজের জন্য আগামী কয়েকদিন চিংড়িঘাটা উড়ালপুল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইওভারের যে অংশটি সুকান্ত নগরের দিকে নেমেছে, তার ওপর দিয়ে গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে গার্ডার যুক্ত করার কাজ হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে মোট ১২০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দুটি ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম দফায়, আজ শুক্রবার রাত ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত উড়ালপুলটি বন্ধ থাকবে। দ্বিতীয় দফায়, আগামী ৩ জুলাই রাত ৮টা থেকে ৬ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত ফ্লাইওভারটি সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।
RVNL-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ৩২৫ ও ৩২৬ নম্বর স্তম্ভের ওপর এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩২৬ ও ৩২৭ নম্বর স্তম্ভের ওপর গার্ডার বসানোর কাজ শেষ করা হবে। এই কাজ সম্পন্ন হলেই গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে মূল লাইনের সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ হবে। খোদ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে গেছেন, যা প্রকল্পের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ রুট ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই দুই দফায় চিংড়িঘাটা উড়ালপুল দিয়ে সেক্টর ফাইভগামী সমস্ত যানবাহন বেলেঘাটা মেন রোড এবং ইএম বাইপাস ক্রসিং ব্যবহার করে সল্টলেকের ভেতর দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কোনো বড় বাধা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গার্ডার বসানোর কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, বিগত তৃণমূল আমলে দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর রাজনৈতিক জটিলতার কারণে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ থমকে ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে আরভিএনএল দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য—চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কবি সুভাষ থেকে নিউটাউন পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা চালু করা। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান এই মেগা ব্লক। শহরের যানজট নিরসন এবং দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ শহরবাসীর কাছে এই সাময়িক অসুবিধার জন্য সহযোগিতা চেয়েছে। ট্রাফিক নির্দেশিকা মেনে চললে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটা কম হবে বলে মনে করছে লালবাজার।