‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’য় খড়্গপুর কাঁপালেন শুভেন্দু অধিকারী, মমতাকে তীব্র আক্রমণ, হিন্দুদের ঐক্যের ডাক

খড়্গপুরে বিশাল ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’র মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার নেতৃত্বে আয়োজিত এই পদযাত্রায় ব্যাপক জনসমাগম হয়, এবং সেখান থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন। বিশেষ করে ২১শে জুলাইয়ের সভার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

‘২১শে জুলাই কেষ্ট মণ্ডলের পাশে মমতা দাঁত কেলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন’
শুভেন্দু অধিকারী তার স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ২১শে জুলাইয়ের তৃণমূলের সভার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “২১শে জুলাই কেষ্ট মণ্ডলের পাশে মমতা দাঁত কেলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন।” এই মন্তব্য তিনি কোন প্রেক্ষিতে করেছেন, তা স্পষ্ট না হলেও, এটি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তার চরম আক্রমণেরই অংশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

‘শুধু কন্যা সুরক্ষা যাত্রা নয়, হিন্দু সুরক্ষা যাত্রাও করতে হবে’
‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’ মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী শুধুমাত্র কন্যাদের সুরক্ষার কথাই বলেননি, একই সঙ্গে ‘হিন্দু সুরক্ষা যাত্রা’র প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “শুধু কন্যা সুরক্ষা যাত্রা নয়, হিন্দু সুরক্ষা যাত্রাও করতে হবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের মন্তব্য প্রায়শই রাজ্যের রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণের বিতর্ক উসকে দেয়।

তৃণমূলকে আক্রমণ, বিজেপির কৌশল
শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের কর্মসূচি এবং মন্তব্য বিজেপির বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে তিনি রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারী সুরক্ষার অভাব নিয়ে সরব হচ্ছেন, অন্যদিকে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। তার এই ধরনের প্রকাশ্য আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে জোর দেওয়া আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে দলের কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে বলেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে।

খড়্গপুরে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’ এবং তার বিস্ফোরক মন্তব্যগুলি নিঃসন্দেহে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।