ছত্রাক ধরা পিৎজা খেয়ে অসুস্থ হওয়ার উপক্রম! দুর্গাপুরের নামী বেকারিতে পুলিশের কড়া পদক্ষেপ!

খাস কলকাতার রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারের গুণগত মান নিয়ে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে আসার পর এবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকলেন সাধারণ মানুষ। দুর্গাপুরের ব্যস্ত বেনাচিতি বাজারের একটি সুপরিচিত বেকারি সংস্থার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ উঠল। গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়া পিৎজায় মিলেছে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক এবং তা থেকে বের হচ্ছিল মারাত্মক পচা ও বাসি গন্ধ। শিশু কন্যার জন্য কেনা এই ভেজাল খাবার খাওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং ওয়াকিবহাল মহল। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। সাময়িকভাবে ওই বেকারি ও খাদ্য বিক্রয় কেন্দ্রের ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এই অঘটন ও গাফিলতির ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে সাফাই দিয়েছে অভিযুক্ত দোকান কর্তৃপক্ষ।
দোকানের এক কর্মীর প্রাথমিক সাফাইয়ে জানানো হয়েছে, বিক্রি হওয়া ওই নির্দিষ্ট প্রোডাক্টে কিছুটা গন্ধ ছিল ঠিকই। তাদের নিয়ম অনুযায়ী দোকানে প্রতিদিন যে সমস্ত খাদ্যসামগ্রী আসে, তা ওই দিনই বিক্রি না হলে ফেরত যাওয়ার কথা। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে হয়তো পিৎজাটি দোকানেই রয়ে গিয়েছিল। ঠিক কী কারণে এমন গুরুতর ত্রুটি ঘটল, তা অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী ক্রেতা। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ক্ষুব্ধ বাবা জানিয়েছেন, তাঁর সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট মেয়ে পিৎজা খাওয়ার আবদার করায় তিনি বেনাচিতির ওই দোকান থেকে ৬৫ টাকা খরচ করে পিৎজাটি কিনেছিলেন। দোকান থেকে সেটি গরম করে প্যাক করে দেওয়া হয়। বাড়িতে এনে মেয়েকে দেওয়ার পর সে প্রায় অর্ধেক পিৎজা খেয়েও ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে সন্দেহ হওয়ায় তিনি নিজে একটু খেয়ে দেখতেই বুঝতে পারেন যে খাবারটি থেকে অত্যন্ত ভয়ংকর ও পচা গন্ধ বের হচ্ছে। তিনি তৎক্ষণাৎ বাকি পিৎজা নিয়ে দোকানে ছুটে যান এবং কর্মীদের গন্ধ শুঁকিয়ে প্রতিবাদ জানান। কর্মীরা দোষ স্বীকার করে টাকা ফেরত দিতে চাইলেও অভিভাবকের প্রশ্ন, খাবার খেয়ে অবুঝ মেয়ের যদি বড় কোনো বিপদ হতো, তবে তার দায় কে নিত?
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশেষ ‘খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ’। এই বিশেষ সচেতনতা ও অভিযানের মাঝেই হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন খাবারের দোকানে নিয়মিত হানা দিয়ে একের পর এক চোখ কপালে তোলার মতো ছবি উদ্ধার করছে প্রশাসন। এর আগে কলকাতার ৫৪টি রেস্তোরাঁ ও খাদ্য বিপণন কেন্দ্রের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোথাও ফ্রিজে রাখা পচা মাংস তো কোথাও বিরিয়ানিতে দেওয়ালের রং মেশানোর মতো জঘন্য ঘটনা সামনে এসেছে। সামনে এসেছে ছাতা ধরা মোমোর ছবিও। চিকিৎসকদের মতে, পচা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার তাৎক্ষণিকভাবে বমি, পেট ব্যথা, ডায়ারিয়া বা মারাত্মক অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের ভেজাল খাবার শরীরে প্রবেশ করলে লিভার ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জীবন পর্যন্ত বিপন্ন হতে পারে।