কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির পাহাড়! সরব হতেই চাকরি গেল পরীক্ষা নিয়ামকের?

নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে অবস্থিত কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগ এবার চরম আকার নিল। ছাত্রী ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগে একাধিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক (Controller of Examinations) বিশ্বজিৎ দত্তকে পদ থেকে সরিয়ে দিল উচ্চশিক্ষা দপ্তর। চুক্তির মেয়াদ ফুরনোর এক মাস আগেই তাঁকে এই ‘অপমানজনক’ বিদায় জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

রেজিস্ট্রারের চিঠি ও অপসারণের কারণ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষ্ণেন্দু রক্ষিত একটি চিঠির মাধ্যমে বিশ্বজিৎবাবুকে জানিয়েছেন যে, তাঁকে আর কাজে আসতে হবে না। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে তাঁকে ‘টার্মিনেট’ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রারের দাবি, উপাচার্য তপতী চক্রবর্তী অভিযোগ করেছিলেন যে বিশ্বজিৎবাবু ‘অবাধ্যতা, অসদাচরণ এবং নির্দেশ অমান্য’ করতেন। শোকজ নোটিসের উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় উচ্চশিক্ষা দপ্তর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বজিৎ দত্তর বিস্ফোরক অভিযোগ মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিশ্বজিৎ দত্ত উপাচার্যের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি:

  • ভর্তিতে অনিয়ম: ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারি সংরক্ষণ নীতি এবং মেধা তালিকা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

  • নিয়োগ দুর্নীতি: শিক্ষক ও শিক্ষিকা নিয়োগে ব্যাপক আর্থিক নয়ছয় ও স্বজনপোষণ হয়েছে।

  • দুর্ব্যবহার: উপাচার্য কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং অপছন্দের কাউকে ছাঁটাই করার হুমকি দেন।

বিশ্বজিৎবাবু বলেন, “আমি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে জানিয়েছিলাম বলেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। আমি দীর্ঘকাল সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছি, এই অপমান মেনে নেওয়া কঠিন। মুখ্যমন্ত্রী ডাকলে আমি সমস্ত প্রমাণ দিতে রাজি।”

উপাচার্যের নীরবতা এই বিষয়ে উপাচার্য তপতী চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া জানতে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে রেজিস্ট্রার স্পষ্ট করেছেন যে, উচ্চশিক্ষা দপ্তর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই এই পদক্ষেপ করেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলা শিক্ষা মহলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কোনো উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy