রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চলা দীর্ঘ টালবাহানায় এবার বড়সড় হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর এবং তাঁদের নির্দিষ্ট সংরক্ষিত শ্রেণি (Category) উল্লেখ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিস্তারিত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ আদালতের।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ: ২০২৪ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী রাজ্য পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। লিখিত পরীক্ষার পর গত ডিসেম্বর মাসে ৬০,১৭৮ জন প্রার্থীর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, সেই তালিকায় প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর বা তাঁরা কোন ক্যাটাগরিতে সুযোগ পেয়েছেন, তার কোনো উল্লেখ ছিল না। এই ‘অস্বচ্ছতা’ নিয়ে সরব হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি নির্দেশ দেন, তালিকায় লুকোছাপা চলবে না; সমস্ত বিস্তারিত তথ্য সাধারণের জন্য প্রকাশ করতে হবে।
রাজ্যের যুক্তি ও পালটা সওয়াল: আদালতে রাজ্যের আইনজীবী অমল কুমার সেন যুক্তি দেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে নম্বর প্রকাশ করলে অকৃতকার্য প্রার্থীরা নতুন করে আইনি জট তৈরি করতে পারেন। রুল অনুযায়ী এমন তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই বলেও দাবি করা হয়। তবে বিচারপতি সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বলেন, স্বচ্ছতার স্বার্থে উত্তীর্ণদের নম্বর প্রকাশে বাধা কোথায়? যদি কোনো প্রার্থী শারীরিক পরীক্ষায় বা ইন্টারভিউতে অযোগ্য প্রমাণিত হন, তবে তিনি এমনিতেই বাদ যাবেন, কিন্তু প্রাথমিক ধাপের নম্বর জানাটা প্রার্থীদের অধিকার।
মামলার প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ৫ মার্চ কনস্টেবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্য সরকার। এরপর ধাপে ধাপে লিখিত পরীক্ষা এবং শারীরিক দক্ষতার পরীক্ষা (PET/PMT) নেওয়া হয়। বর্তমানে ইন্টারভিউয়ের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু মামলাকারীদের আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ীর দাবি, বিস্তারিত তথ্য ছাড়াই তালিকা প্রকাশ করায় সাধারণ প্রার্থীদের মনে সন্দেহের অবকাশ তৈরি হচ্ছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে এখন লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী জানতে পারবেন তাঁরা লিখিত পরীক্ষায় ঠিক কত নম্বর পেয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে এই তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে।