কচ্ছপ বাঁচলে আমরা বাঁচব! জলাশয়ের ‘নীরব যোদ্ধা’ কচ্ছপই কমায় ডেঙ্গির প্রকোপ, চন্দ্রকোণায় বার্তা বিশেষজ্ঞদের

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চারটি কচ্ছপকে উদ্ধার করে নিরাপদ গভীর জলাশয়ে ছেড়ে দিয়েছে ওয়াইল্ড লাইফ রিকভারি টিম। শ্যামসুন্দরপুর, মনোহরপুর, মাংরুল এবং সুলতানপুর এলাকা থেকে কচ্ছপগুলিকে উদ্ধার করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষজনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে: ‘এরা বাঁচলে আমরা বাঁচব’।
ভুল ধারণা ভাঙালেন বিশেষজ্ঞেরা
অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, কচ্ছপের মাংস খেলে নাকি শরীরের রোগ কমে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞেরা এই ধারণাটিকে পুরোপুরি ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এই জলজ প্রাণীটিকে জীবিত রাখলেই মানুষের বেশি উপকার হয়।
ওয়াইল্ড লাইফ রিকভারি টিমের সদস্য মলয় ঘোষ জানান, কচ্ছপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একপ্রকার নীরব যোদ্ধা।
ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ: কচ্ছপ জলাশয়ে থাকা ডেঙ্গি মশার লার্ভা খেয়ে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর ফলে মশা বাড়তে পারে না এবং ডেঙ্গির ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যায়।
জলাশয় পরিচ্ছন্নতা: কচ্ছপ পচা খাবার, মাইক্রো-অর্গানিজম এবং নোংরা খেয়ে জলকে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
মলয় ঘোষ বলেন, “মানুষ যদি এই প্রাণীগুলিকে মেরে না ফেলে বাঁচিয়ে রাখে, তাহলে ডেঙ্গির প্রভাব বহু জায়গায় কমে যাবে।” যখন ডেঙ্গি মানুষের জীবনে আতঙ্কের নাম, তখন এই ছোট্ট প্রাণীগুলিই আমাদের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
এই কচ্ছপ উদ্ধার ও পুনর্বাসনের ঘটনা তাই শুধু একটি দায়িত্ব পালন নয়, বরং মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে সুস্থ ভবিষ্যতের বার্তা।