“সিন্ধু ভারতের অংশ হয়ে যেতে পারে”! রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যে ‘বিভ্রমমূলক’ ও ‘বিস্তারবাদী’ বলে তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে “বিভ্রমমূলক,” “বিস্তারবাদী,” এবং “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন” বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে পাকিস্তান। সিন্ধ অঞ্চল ভারতের অংশ হয়ে যেতে পারে—তাঁর এমন মন্তব্যের পর, সোমবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, এই বক্তব্য রাষ্ট্রসঙ্ঘ স্বীকৃত সীমান্ত, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে।

পাকিস্তানের অভিযোগ: ‘হিন্দুত্ব বিস্তারবাদী মানসিকতা’
পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য “পুনর্বিবেচনাবাদী, হিন্দুত্ব বিস্তারবাদী মানসিকতা” তুলে ধরে, যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক স্বীকৃত সীমান্তের অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করে দাবি করে যে, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

ইসলামাবাদের বক্তব্য, ভারতের এমন উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য এড়িয়ে চলা উচিত। তারা পরামর্শ দেয়, ভারত যেন নিজের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেয়।

কী বলেছিলেন রাজনাথ সিং?
রবিবার দিল্লিতে সিন্ধি সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং জানান, আজ সিন্ধু পাকিস্তানের অংশ হলেও সভ্যতাগতভাবে তা ভারতেরই অঙ্গ। তিনি বলেন, “সিন্ধু উপত্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে অটুট। রাজনৈতিক সীমান্ত বদলায়, ভবিষ্যতে কী হবে বলা যায় না। কে জানে, আগামী দিনে সিন্ধু ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে না।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সিন্ধু নদ অনেক সিন্ধি হিন্দুর কাছে পবিত্র এবং এল কে আদবানির প্রজন্ম ১৯৪৭ সালের দেশভাগের কষ্ট ভুলতে পারেনি। তিনি জানান, আব-এ-জমজমের মতোই সিন্ধ অঞ্চলের বহু মুসলিম সিন্ধু নদীর জলকে পবিত্র মনে করতেন।

ইসলামাবাদ জবাবে স্পষ্ট করে দেয়, সিন্ধু প্রদেশ পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ নিয়ে কোনও বক্তব্যই তারা মেনে নেবে না। পাকিস্তানের মতে, ভারতের এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।