‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান! বেকারদের এই নতুন দল কি কেবল ব্যঙ্গ, নাকি রাজনীতির নতুন মোড়?

মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সুনামি তুলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘আরশোলা জনতা পার্টি’। নিজেকে “যুবদের দ্বারা, যুবদের জন্য” বলে দাবি করা এই মঞ্চের মূলমন্ত্র—ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক ও ‘অলস’। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের এই অদ্ভুত উদ্যোগের সদস্য সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদের মতো তৃণমূল সাংসদদের মজার ছলে আমন্ত্রণ জানিয়ে তারা শিরোনামে উঠে এসেছে।
দলের নাম নিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেকার যুবকদের নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করেই এই নামকরণ। তবে কেবল রসিকতা নয়, এআই (AI) প্রযুক্তিতে তৈরি গান এবং ভার্চুয়াল সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে টানার কৌশল নিচ্ছে তারা। পরীক্ষার দুর্নীতি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নারী সংরক্ষণের মতো গুরুতর রাজনৈতিক ইস্যুতেও সরব হয়েছে আরশোলার দল। দলের সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবে তারা মজা করে রেখেছে—বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে এবং সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে। তবে এটি নিছক রাজনৈতিক প্যারোডি নাকি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলের ভ্রূণ, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে কেবল ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতেই যে তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব, তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ।