ককপিটে রক্তগঙ্গা! ফ্লাই দুবাই বিমানে পাইলট-কো-পাইলটের ভয়াবহ লড়াই, কীভাবে বাঁচল ১৭৯ যাত্রীর প্রাণ?

ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এক রোমহর্ষক ও লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ সম্প্রতি সামনে এসেছে। আকাশছোঁয়া উচ্চতায় তখন ছুটছিল বিমানটি। ভেতরে সব যাত্রীরাই শান্তিতে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিলেন। হঠাৎই ককপিট থেকে ভেসে আসে আর্তনাদ ও চিৎকার। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি। বিমানের ভেতরে পাইলট ও কো-পাইলটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কো-পাইলটের নৃশংস আক্রমণে রক্তাক্ত অবস্থায় বিমানের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। আর সেই বিমানেরই সহযাত্রী তথা পেশায় ইজরায়েলি চিকিৎসক শুতা মুসায়েভের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার রোমহর্ষক বিবরণ।
ঘটনার সূত্রপাত দুবাই থেকে বিমান ওড়ার কিছু সময় পর। হঠাৎ করেই ককপিটের দিক থেকে ভেসে আসা চিৎকার শুনে কয়েকজন যাত্রী ও ককপিটের দরজার দিকে ছুটে যান। খোলা দরজার ওপারে যা দেখা যায়, তা দেখে সকলের রক্ত জল হয়ে যাওয়ার জোগাড়। তারা দেখেন, কো-পাইলট হাতে ছুরি নিয়ে উন্মত্তের মতো বসে রয়েছেন, আর পাইলট স্মিত মাচ্ছার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছটফট করছেন। বিমানের মেঝে ইতিমধ্যেই রক্তে ভেসে গিয়েছে। পিঠে, ঘাড়ে এবং পেটের আঘাতের যন্ত্রণায় তখন মারাত্মকভাবে কাহিল পাইলট।
এই চরম সংকটের মুহূর্তেও ভেঙে পড়েননি সহযাত্রী ও পেশায় চিকিৎসক শুতা মুসায়েভ। তিনি দ্রুত এগিয়ে যান আহত পাইলটের কাছে। তার ক্ষতস্থান সামলানোর পাশাপাশি তিনি বারবার বলতে থাকেন, “ক্যাপ্টেন মাচ্ছার, প্লিজ ঘুমোবেন না। আমাদের সকলের আপনাকে প্রয়োজন।” একই সঙ্গে অন্যান্য যাত্রীরা সাহস জুগিয়ে আক্রমণকারী কো-পাইলটকে কোনোমতে নিরস্ত্র করেন।
এদিকে বিমানের ককপিটের সামনে ততক্ষণে বিশাল ভিড় জমে গিয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় বিমানটি প্রচণ্ড দুলতে শুরু করে এবং যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্লেনের ভিতর জঙ্গি হামলা হয়েছে—এই সন্দেহে অনেকে হুড়োহুড়ি ও তল্লাশি শুরু করে দেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন বিমানে থাকা অন্য দুই যাত্রী, যাঁদের পেশা ছিল পাইলট। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ককপিটে ঢুকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ান।
অবশেষে বিমানটি সৌদি আরবের মাটিতে জরুরি অবতরণ করে। বিমানটি নামমাত্রই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন যাত্রীরা। আহত পাইলটকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে সৌদি আরবের একটি বিশেষ হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসায় তিনি ভালো সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর এই সাহসিকতা এবং অন্য যাত্রীদের সময়োপযোগী পদক্ষেপে রক্ষা পেয়েছে বিমানে থাকা ১৭৯ জন যাত্রীর অমূল্য প্রাণ।