‘কংগ্রেস-আরজেডি-র সরকার চাই না’! বিহারের ভোটে রাম মন্দির প্রসঙ্গ তুলে যোগী আদিত্যনাথের তুমুল গর্জন

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের ঠিক প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-র স্টার ক্যাম্পেনার এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ একের পর এক জনসভা করে ভোটের হাওয়াকে নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করছেন। সমস্তিপুরে যোগী আদিত্যনাথের জনসভায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়, যেখানে তিনি রাম মন্দির প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস ও আরজেডি-কে তীব্র আক্রমণ শানান।

যোগীর নিশানায় রাম মন্দির ও বিরোধীরা
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর জনসভায় রাম মন্দির নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। রাম মন্দির নিয়ে কংগ্রেস ও আরজেডি-র পুরোনো অবস্থানকে কটাক্ষ করে তিনি ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেন।

রাম মন্দির প্রসঙ্গ: যোগী আদিত্যনাথ বলেন, বহু প্রতীক্ষিত রাম মন্দির তৈরি হচ্ছে। এই মন্দির নির্মাণের জন্য বিজেপি সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করেছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হিন্দুত্বের আবেগ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।

কংগ্রেস-আরজেডি আক্রমণ: যোগীর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল কংগ্রেস এবং আরজেডি (রাষ্ট্রীয় জনতা দল)। তিনি দাবি করেন, এই দলগুলি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে আবার জঙ্গলরাজ ফিরিয়ে আনবে এবং উন্নয়নের প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেবে। তিনি ভোটারদের কাছে এমন সরকারকে প্রত্যাখ্যান করার আবেদন জানান।

ভিড় এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য
সমস্তিপুরের জনসভায় মানুষের বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বিহারের ভোটারদের মধ্যে যোগী আদিত্যনাথের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং তাঁর কট্টর হিন্দুত্বের বার্তা এখনও যথেষ্ট আকর্ষণ তৈরি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিহারে প্রথম দফায় ভোট শুরু হওয়ার ঠিক আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এমন ‘আগুনে’ ভাষণ দেওয়ানো বিজেপির একটি সুচিন্তিত কৌশল। এর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারের ভোটারদের মধ্যে জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে হিন্দুত্বের সম্মিলিত আবেগ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

যোগী আদিত্যনাথ ভোটারদের প্রতি আবেদন জানান, রাজ্যে এমন সরকার গঠন করা উচিত যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।