টলিউড অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এখন টক অফ দ্য টাউন। হিরণ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। একদিকে ঋতিকার দাবি, হিরণ তাঁর সঙ্গেই আছেন; অন্যদিকে অনিন্দিতার পাল্টা তোপ— ‘আগে ডিভোর্স দিক, তারপর যা খুশি করুক।’ এই কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝেই সবথেকে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন হিরণের ১৯ বছর বয়সী মেয়ে নিয়াসা।
মেয়েকে আত্মহত্যার হুমকি ঋতিকার? নিয়াসার দাবি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। তিনি জানান, ২০২৪ সালে ঋতিকা গিরি স্বয়ং তাঁকে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রথমে মিসড কল এবং পরে মেসেজ করে ঋতিকা নাকি নিয়াসাকে বলেছিলেন, “তুমি খুশি থাকো, আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছি।” মা ও মেয়ের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনাটি ২০২৪ সালের নভেম্বরের আগের। এরপরই নাকি ভয় পেয়ে হিরণ টানা ৫ মাস খড়গপুর ছেড়ে কলকাতার আর্বানা আবাসনে প্রথম স্ত্রী ও মেয়ের কাছে এসে ছিলেন।
ব্ল্যাকমেল ও ব্যাঙ্কক পালানোর গল্প: অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, হিরণ নাকি ঋতিকার ভয়ে খড়গপুর থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। হিরণ তাঁকে বলেছিলেন, “মেয়েটা আমায় ব্ল্যাকমেল করছে।” এমনকি এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হিরণ নাকি ব্যাঙ্কক পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং স্ত্রী-মেয়েকেও সেখানে টিকিট কেটে চলে যেতে বলেন। নিয়াসার দাবি, তাঁর কাছে বাবার পাঠানো এমন অনেক মেসেজের স্ক্রিনশট আছে যা প্রমাণ করবে যে ঋতিকা হিরণকে ব্ল্যাকমেল করছিলেন।
চ্যালেঞ্জের মুখে দ্বিতীয় বিয়ে: অনিন্দিতা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, “বিয়ে করা এত সহজ নয়। ভিয়েতনামে ঘুরে সিঁদুর পরলেই সংসার হয় না। আগে আমায় ডিভোর্স দিক। ২৫ বছরের সংসার আমার, হিরণ চট্টোপাধ্যায় ওকে নিয়ে কীভাবে সংসার করে আমিও দেখব।” ঋতিকার বয়স ও বিয়ের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে মেয়ের বয়ান— সব মিলিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে এখন চরম বিতর্কের মুখে।