“ও অপরাধী, সাজা পাক চেয়েছিলাম, কিন্তু এনকাউন্টার…” গাইঘাটার নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্যকর দাবি মায়ের

নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের ‘এনকাউন্টার’ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত গাইঘাটা। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে ওই অভিযুক্ত এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে নিহত হয় প্রহ্লাদ। মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। তবে সব ছাপিয়ে এবার পুলিশের ভূমিকা ও এনকাউন্টারের তত্ত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন খোদ মৃত অভিযুক্তের মা রেখা দাস।

মায়ের বিস্ফোরক প্রশ্ন: “হাত বাঁধা অবস্থায় কীভাবে গুলি চালাল ছেলে?”

বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রহ্লাদের মা রেখা দেবী জানান, সোমবার গভীর রাতে পুলিশ যখন তাঁর ছেলেকে বাড়িতে এনেছিল, তখন তাঁর হাত বাঁধা ছিল। মায়ের প্রশ্ন, “রাত ২টোর সময় যখন ছেলেকে বাড়ি আনল, ওর হাত সঙ্গে পাঁচজন পুলিশ অফিসার ছিল। হাত বাঁধা অবস্থায় ও কী করে পিস্তল বার করে গুলি চালাবে? আপনারা একটু ভেবে দেখুন!”

মায়ের দাবি, প্রহ্লাদ জীবনে কখনও বন্দুক বা আগ্নেয়াস্ত্র ধরতেও পারত না। শান্ত স্বভাবের ছেলে এমন কাজ করতে পারে, তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

“অন্যায় করেছে, সাজা পাক চেয়েছিলাম”— দ্বিমুখী আবেগ মায়ের কণ্ঠে

ছেলের অপরাধের কথা স্বীকার করে মা বলেন, প্রহ্লাদ অন্যায় করলে তার কঠোর শাস্তি হোক— এমনটাই তিনি পুলিশকে বলেছিলেন। এক নাগরিক হিসেবে তিনি সন্তুষ্ট হলেও, এক জন মায়ের বুক ফাটা কান্নাও এ দিন লুকিয়ে রাখতে পারেননি রেখা দেবী। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “আমার মেয়ে থাকলেও আমি এই বিচারই করতাম। ভবিষ্যতে কোনো পুরুষ এমন জঘন্য কাজ করার আগে যেন দশবার ভাবে।” একই সুর শোনা গিয়েছে প্রহ্লাদের বাবার গলাতেও। তবে পরিবারের দাবি, আইনত শাস্তি হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এই এনকাউন্টার তারা মেনে নিতে পারছেন না। পাশাপাশি ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তাঁরা।

ঠিক কী ঘটেছিল গাইঘাটায়?

পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের অভিযোগ, সেই সময়ই সুযোগ বুঝে এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে সে এবং গুলি চালায়। এর পরই পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

তদন্তের মাঝেই পুলিশের এই এনকাউন্টার তত্ত্ব এবং পরিবারের তোলা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ গোটা ঘটনায় নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। আইনগত বিচার বনাম এনকাউন্টার নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।