বাম জমানার ‘বুদ্ধিজীবী’ থেকে মমতার ‘পরম আস্থাভাজন’! গায়ক থেকে প্রভাবশালী মন্ত্রী, ইন্দ্রনীল সেনের পতনে স্তম্ভিত বাংলা

বিনোদন জগৎ থেকে রাজনীতির অলিন্দে উল্কাগতিতে উত্থান হয়েছিল তাঁর। একসময়ের জনপ্রিয় গায়ক থেকে রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরম আস্থাভাজন হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন দীর্ঘ সময়। কিন্তু সেই উজ্জ্বল রাজনৈতিক জীবনেই নেমে এলো চরম বিপর্যয়। নাটকীয় মোড়ে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।

🚨 সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে নাটকময় গ্রেফতারি

বুধবার সকাল থেকেই সিবিআই ও ইডির সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি যখন ভবনের বাইরে বের হন, ঠিক তখনই তাঁকে পাকড়াও করে কলকাতা পুলিশ। সূত্রের খবর, তদন্তে অসহযোগিতার কারণেই সিজিও কমপ্লেক্সের চত্বর থেকেই প্রাক্তন এই মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

🎤 বাম-ঘেঁষা গায়ক থেকে দিদির পরম আস্থাভাজন

রাজনীতিতে ইন্দ্রনীল সেনের পথচলা যেমন চমকপ্রদ, তেমনই নাটকীয়। ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময়েও আমজনতার চোখে তিনি ছিলেন বাম-ঘেঁষা ‘বুদ্ধিজীবী’। তবে পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক বিচক্ষণতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। দলীয় অলিন্দে চর্চা রয়েছে— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চলতে চলতেই তিনি শিখে নিয়েছিলেন রাজনীতির মূল মন্ত্র, “চলার কোনও শেষ নাই, থামার চেষ্টা বৃথা তাই!”

📉 জয়ের হ্যাটট্রিক মিস এবং পতনের শুরু

২০১৬ এবং ২০২১— পরপর দু’বার চন্দননগর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দাপুটে মন্ত্রী হন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঘটে বড় বিপর্যয়। চন্দননগর আসন থেকেই পরাজিত হতে হয় তাঁকে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নির্বাচনের এই হার এবং পরবর্তীতে একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়াই তাঁর রাজনৈতিক পতনের গতি বাড়িয়ে দেয়।

দীর্ঘদিনের চড়াই-উতরাই ও মুখ বুজে ব্যথা সহ্য করার পর অবশেষে সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে থমকে গেল ইন্দ্রনীল সেনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। এই গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha