বাংলাদেশের উদীয়মান ছাত্রনেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। এই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই মূল পান্ডা ফয়জল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে এবার নিজেদের হেফাজতে নিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। সোমবার আদালত অনুমতি দিতেই ধৃতদের দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ (UAPA) ধারায় মামলা রুজু করেছে এনআইএ। নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সার্ক (SAARC) চুক্তি মেনে এই আন্তঃদেশীয় অপরাধের তদন্তভার হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুম্মার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় বক্স কালভার্টের কাছে নৃশংসভাবে গুলি করা হয় ওসমান হাদিকে। মাথায় গুলি লাগায় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠালেও শেষ রক্ষা হয়নি। সিঙ্গাপুর থেকে ফেরে হাদির নিথর দেহ। এরপরই ঘাতকরা গা-ঢাকা দেয়। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ (STF) বনগাঁ সীমান্ত এলাকার একটি গোপন ডেরা থেকে ফয়জল ও আলমগীরকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হাদিকে খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে খবর।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনের মতো একাধিক অপরাধে যুক্ত এই দুই দুষ্কৃতী অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। এনআইএ-র প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী বা বড় কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। দিল্লির বিশেষ আদালত ধৃতদের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর এখন তাঁদের জেরা করে এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ডের হদিশ পেতে চাইছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সীমান্তের ওপারে ঘটে যাওয়া এই হাই-প্রোফাইল খুনের রহস্যভেদে এখন এনআইএ-র দিকে তাকিয়ে দুই দেশ।