ওবিসি মামলার দ্রুত শুনানি খারিজ, জয়েন্টের ফল প্রকাশ নিয়ে কি নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের?

ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের দ্রুত শুনানির আবেদন মঙ্গলবারও খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত দিন, অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বরই হবে। এর ফলে রাজ্যকে আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দেয়। হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, ২০১০ সালের পরের ওবিসিভুক্ত সম্প্রদায়গুলিকে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে এবং শুধুমাত্র পুরনো ৬৬টি ওবিসি গোষ্ঠীই সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। এর অর্থ, যদি জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, তবে তা এই পুরনো বিধি মেনেই করতে হবে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায় এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানায়। তবে সোমবার এবং মঙ্গলবার, দুই দিনই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। মঙ্গলবার আইনজীবী কুণাল মিমানি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আবেদন জানালে প্রধান বিচারপতি বলেন, “মামলা শুনানির জন্য লিস্ট তো করাই আছে।” এরপর হাইকোর্টের একের পর এক নির্দেশ সম্পর্কে জানতে পেরে প্রধান বিচারপতি বিরক্ত হয়ে বলেন, “আমরা তো হাইকোর্টকে কোনো নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছি। এক কাজ করুন, আপনি আদালত অবমাননার একটা ফ্রেশ আবেদন জমা দিন।”
এর ফলে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের ফল প্রকাশ নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা আরও দীর্ঘায়িত হলো। গত ২৭ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও তিন মাস পেরিয়ে গেছে এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট নতুন মেধাতালিকা বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার পর এই জটিলতা আরও বেড়েছিল।
যদি রাজ্য সরকার হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে পুরনো নিয়ম অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ না করে, তবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে। জয়েন্ট এন্ট্রান্স-এর পাশাপাশি বিটেক, বিফার্ম, নার্সিং এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার ফলও এই আইনি জটিলতার কারণে আটকে রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।