ওজন কমাতে ফ্ল্যাক্স সিড খাচ্ছেন? গোটা না গুঁড়ো, কোন উপায়ে মিলবে জাদুকরী উপকার?

ওজন কমানোর লড়াইয়ে অনেকেই এখন ভরসা রাখেন তিসি বীজ বা ফ্ল্যাক্স সিডের ওপর। কিন্তু নিয়মিত ডায়েটে এটি রাখার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, এই বীজে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং উচ্চ মাত্রার ফাইবার শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি কমাতে সাহায্য করে। তবে ভুলভাবে খেলে এই বীজের পুষ্টিগুণ শরীর ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না।

এক টেবিল চামচ তিসির বীজে থাকে মাত্র ৫৫ ক্যালোরি এবং ৩ গ্রাম ফাইবার। ফাইবার আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং বারবার ক্ষিধে পাওয়ার প্রবণতা কমে। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই বীজ গোটা খাওয়া ভালো না গুঁড়ো করে?

তিসির বীজের বাইরের আবরণটি বেশ শক্ত হয়। ফলে গোটা বীজ সরাসরি খেলে তা সহজে হজম হয় না এবং এর ভেতরের পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছাতে পারে না। তাই সবথেকে ভালো উপায় হলো বীজগুলোকে হালকা ভেজে গুঁড়ো করে নেওয়া। এতে বীজের ভেতরের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরের কাজে লাগে। যাদের শরীরে প্রোটিনের অভাব রয়েছে, তারা আমিষ জাতীয় খাবারের সাথে এই গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে আমিষের গুণগত মান বহুগুণ বেড়ে যায়।

তবে শুরুর দিকে খুব বেশি পরিমাণে এটি খাওয়া উচিত নয়। হজমশক্তি বুঝে প্রথমে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা ভালো। প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ গুঁড়ো করা ফ্ল্যাক্স সিড দই, ওটস, স্মুদি বা সালাদে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। মনে রাখবেন, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে প্রচুর পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় ফ্ল্যাক্স সিড এক দারুণ সংযোজন হতে পারে, তবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় গ্রহণ করা শ্রেয়।