বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য নাম সাহিত্যিক মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায়, যাঁকে বিশ্ব চেনে ‘শংকর’ হিসেবে। তাঁর নিজের জীবন ও লেখনী যেমন বর্ণময়, তেমনই অন্যদের মেধা ও কৃতিকে কুর্নিশ জানাতেও তিনি কখনও কার্পণ্য করেন না। ‘সেরা বাঙালি ২০২২’-এর বর্ণাঢ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এমন এক ব্যক্তিত্বের কথা বলেছিলেন, যা শুনে উপস্থিত দর্শকদের পাশাপাশি সাহিত্য অনুরাগীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল গভীর এক আবেগ। শংকর সেদিন বলেছিলেন, “ওঁর প্রতি পাতায় গল্প লুকিয়ে আছে।” কিন্তু কার কথা বলেছিলেন এই কিংবদন্তি সাহিত্যিক?
অনুষ্ঠানের সেই বিশেষ সন্ধ্যায় শঙ্কর আদতে এক জন গুণী বাঙালির জীবনসংগ্রাম এবং সাফল্যের আখ্যানকে তুলে ধরেছিলেন। সাহিত্যিকের ভাষায়, একজন মানুষের জীবন যখন নিজেই একটা উপন্যাস হয়ে ওঠে, তখনই তাঁর প্রতিটি কাজ, প্রতিটি পদক্ষেপ বা তাঁর রচনার ‘প্রতিটি পাতা’ থেকে গল্পের রসদ পাওয়া যায়। শঙ্করের মতো একজন মহীরুহ যখন অন্য কারোর কৃতিত্বকে এভাবে মূল্যায়ন করেন, তখন তা কেবল সেই ব্যক্তির সম্মান নয়, বরং গোটা বাঙালি জাতির মেধার জয়গান হিসেবেই চিহ্নিত হয়।
সেরা বাঙালির মঞ্চটি বরাবরই কৃতিদের মিলনোৎসব। সেখানে দাঁড়িয়ে শংকর যে আন্তরিকতা ও গভীরতার সাথে ওই বিশেষ ব্যক্তিত্বের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছিলেন, তা আজও অমলিন। তাঁর সেই বক্তব্যের রেশ ধরে আজও নেটিজেনরা খুঁজে ফেরেন সেই অমর মুহূর্তকে। বাঙালির বৌদ্ধিক চর্চা এবং সৃজনশীলতার এই আদান-প্রদানই প্রমাণ করে যে কেন শংকর আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর সেই অমোঘবাণী কেবল প্রশংসাবাক্য ছিল না, ছিল এক উত্তরসূরির জন্য আশীর্বাদ এবং যোগ্য প্রজ্ঞার স্বীকৃতি।