ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত,ডিজিটাল জনগণনা শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালে, স্মার্টফোনে হবে গণনা

১৫ বছর পর ভারতে শুরু হতে চলেছে জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া, তবে এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই গণনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং ২০২৭ সালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এবার আর কাগজের ফরম নয়, গণনাকারীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত সব তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করা হবে, যা তথ্য সংগ্রহে ভুল ও জটিলতা কমাবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলবে।

প্রস্তুতি ও পদ্ধতি
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI) এই কাজের জন্য প্রায় ৩৪ লক্ষ গণক নিয়োগ করবে। অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন উভয় প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহার করা যাবে। সংগৃহীত তথ্য ইংরেজি ছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় দেখা যাবে। যদি কোনো কারণে কাগজে তথ্য লেখা হয়, তাহলে সেটি নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টালে পরে আপলোড করতে হবে।

কোভিড মহামারির কারণে ২০২১ সালের জনগণনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবারের জনগণনা দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাড়ি, জমি এবং সম্পত্তি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে জনসংখ্যার গণনা। তবে লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের মতো তুষারাবৃত অঞ্চলে প্রথম ধাপের তথ্য সংগ্রহ ওই বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হবে।

জাতগণনার পরিকল্পনা এবং বাজেট
নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে এটিই প্রথম জনগণনা। এই গণনায় প্রথমবারের মতো জনসংখ্যার সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি জাত ও জনগোষ্ঠী সম্পর্কিত তথ্যও সংগ্রহ করা হতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য বাজেটে ১৪,৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এই ডিজিটাল জনগণনা ভারতের পরিসংখ্যান সংগ্রহ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।