বিজ্ঞানের জয়যাত্রা নাকি অজানা কোনো শক্তির প্রতিহিংসা? আমেরিকায় গত কয়েক মাসে একে একে ১০ জন অত্যন্ত উচ্চপদস্থ বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলোর তালিকায় রয়েছেন নামী জ্যোতির্বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে প্রাক্তন বায়ুসেনা জেনারেল। আর এই রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে ‘এলিয়েন’ বা ‘UFO’ সংযোগের তত্ত্ব।
কাদের নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য? নিখোঁজ ও মৃতদের তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত:
জেনারেল উইলিয়াম নীল ম্যাককাসল্যান্ড: মার্কিন বায়ুসেনার এই প্রাক্তন জেনারেল গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি একসময় রাইট-প্যাটারসন বেসের দায়িত্বে ছিলেন, যা বছরের পর বছর ধরে ‘ইউএফও’ গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মনিকা রেজা ও মেলিসা কাসিয়াস: নাসা (NASA) এবং লস আলামোস ল্যাবরেটরির এই দুই বিজ্ঞানী দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ। রকেট সায়েন্স ও সেনসিটিভ সরকারি প্রজেক্টে যুক্ত ছিলেন তাঁরা।
কার্ল গ্রিলমেয়ার ও নুনো লরুইরো: ক্যালটেকের অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট কার্লকে তাঁর বাড়ির সামনেই গুলি করে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে, এমআইটি (MIT)-র নিউক্লিয়ার ফিউশন বিশেষজ্ঞ নুনো লরুইরোও একইভাবে হামলার শিকার হন।
কেন উঠছে এলিয়েন-সংযোগের প্রশ্ন? মার্কিন রাজনীতিকদের একাংশ এবং ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনাগুলোর নেপথ্যে বড় কোনো গোপন তথ্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে: ১. ট্রাম্পের নির্দেশ ও টাইমিং: ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেন্টাগনকে ‘ইউএফও’ সংক্রান্ত সব ফাইল প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ দেওয়ার ঠিক পরেই জেনারেল ম্যাককাসল্যান্ড নিখোঁজ হন। ২. টিম বারচেটের বিস্ফোরক দাবি: মার্কিন কংগ্রেস সদস্য টিম বারচেট সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “এখানে খুব অন্ধকার কিছু ঘটছে।” তাঁর মতে, যারা ইউএফও-র সত্য জানতে চাইছেন, তাঁরা বিপদে পড়ছেন। ৩. গবেষণার বিষয়: মৃত বা নিখোঁজ বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকেই এক্সোপ্ল্যানেট (ভিনগ্রহ), ডার্ক ম্যাটার বা উচ্চপ্রযুক্তির মহাকাশ যান নিয়ে কাজ করছিলেন।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া: এই উত্তাল পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তদন্তকারী সংস্থাগুলো প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখছে। তবে কোনো ‘সমন্বিত চক্রান্ত’ বা এলিয়েন-সংযোগের কথা এখনই স্বীকার করা হয়নি।
রহস্যের অন্তরালে: হার্ভার্ডের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আভি লোয়েব অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, এর পেছনে বিদেশি চরবৃত্তি (Espionage) থাকতে পারে, তবে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এলিয়েন তত্ত্ব মেনে নেওয়া কঠিন।
সত্যিই কি ব্রহ্মাণ্ডের কোনো রহস্য জেনে ফেলেছিলেন এই ১০ বিজ্ঞানী? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র? নজর রাখুন আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।





