এক বছর আগে আজকের এই ১২ জুনেই আকাশ ভেঙে পড়েছিল আহমেদাবাদের বুকে। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ২৪২ জন যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত ওই বিমানে যেন মৃত্যুপুরী নেমে এসেছিল। প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, বিমানের কেউই আর বেঁচে নেই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। আহমেদাবাদ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণরক্ষা হয় ৪০ বছর বয়সী বিশ্বাসকুমার রমেশের। বর্তমানে তিনি আহমেদাবাদের আসারওয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কীভাবে সম্ভব হলো এই অলৌকিক বেঁচে থাকা? বিমানের কনফিগারেশন বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বাসকুমার রমেশের বসার জায়গাটি ছিল ১১এ আসনে, যা ইকনমি ক্লাসের প্রথম সারিতে এবং বিজনেস ক্লাসের ঠিক পিছনে। এটি বিমানের সামনের দিকের একটি উইন্ডো সিট। বিমান দুর্ঘটনার সময় এই বিশেষ অবস্থানটিই তার জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শারীরিক ক্ষত শুকিয়ে গেলেও মনের ক্ষত আজও টাটকা। ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-কে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে বিশ্বাসকুমার রমেশ জানিয়েছেন, এই ট্র্যাজেডির যন্ত্রণা দুর্ঘটনার দিনেই শেষ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, “আমি আমার ভাইকে হারিয়েছি। কীভাবে এবং কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। এই প্রশ্নগুলো আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়। আজও আমি গভীর মানসিক ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছি।”
দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তিন দশকের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা। এত বড় বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে এখনও পর্যন্ত তদন্তকারীরা কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেননি। নিহতদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রসঙ্গত, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের তালিকায় ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিও। এই ঘটনায় শোকে মুহ্যমান পরিবারগুলো আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে। ঘটনার এক বছর পরেও তদন্তের এই ধীরগতি সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ও সন্দেহের উদ্রেক করেছে।





