বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের আনন্দে মেতে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করার পর ফেরার পথে প্রাণ হারালেন দুই ভারতীয় পর্বতারোহী। শুক্রবার নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত পর্বতারোহীদের পরিচয় পাওয়া গেছে—অরুণ কুমার তিওয়ারি এবং সন্দীপ আরে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত বুধবার নেপালের দিক থেকে ২৭৪ জন পর্বতারোহীর একটি বিশাল দল মাউন্ট এভারেস্টের ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উঁচুতে আরোহণ করেন। এটি একদিনে সর্বাধিক মানুষের চূড়ায় পৌঁছানোর এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড। এই ঐতিহাসিক অভিযানের অংশ ছিলেন সন্দীপ আরে। অন্যদিকে, অরুণ কুমার তিওয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার নাগাদ চূড়ায় পৌঁছান। রেকর্ড গড়ার আনন্দ নিমিষেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় যখন শৃঙ্গ থেকে নামার সময় তাঁরা অসুস্থ ও অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
নেপালের এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ঋষি ভান্ডারি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, পর্বতারোহীদের সাথে থাকা গাইডরা তাঁদের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় চরম ক্লান্তির কাছে হার মানতে হয় তাঁদের। সন্দীপ আরে বৃহস্পতিবার মারা যান। তবে অরুণ কুমার তিওয়ারি ঠিক কখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
এই বসন্তের মৌসুমে এভারেস্ট আরোহণে এক নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। ঋষি ভান্ডারি জানান, একদিনে চূড়ায় পৌঁছানো ২৭৪ জনের এই দলে ১৫০ জনই ছিলেন নেপালি শেরপা। এই মৌসুমে মোট ৫০২ জন পর্বতারোহীকে এভারেস্ট আরোহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই দলে সন্দীপ ও অরুণ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন ভারতীয় পর্বতারোহী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে তুলসী রেড্ডি পালপুনুরি, অজয় পাল সিং ধালিওয়াল এবং লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডলের নাম উল্লেখযোগ্য।
নিরাপদভাবে আরোহণ সম্পন্ন করার পর কেন এমন বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে পর্বতারোহন সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এভারেস্টের প্রতিকূল উচ্চতায় অক্সিজেনের অভাব এবং অত্যধিক শারীরিক ক্লান্তির কারণে ফেরার পথ অনেক সময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই দুই পর্বতারোহীর অকাল মৃত্যুতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে তাঁদের পরিবার ও পর্বতারোহী মহলে।





