যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিচার ব্যবস্থায় এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) অন্তর্ভুক্তির পথে সুপ্রিম কোর্ট। ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের উদ্যোগে এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বিচারক বা আইনজীবীর বিকল্প হিসেবে নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে এআই-এর ভূমিকা:
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের মামলা লিস্টিং (Listing) এবং বেঞ্চ বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছিল। জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে আদালতের রেজিস্ট্রারের কাজের পদ্ধতিতে বেশ কিছু অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। পুরনো প্রযুক্তি ও অদক্ষতার কারণে অনেক সময় একই মামলা একাধিক বেঞ্চে ওঠার মতো বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল। এই জট কাটাতেই এআই ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত:
মামলা তালিকাভুক্ত (Listing) করার কাজ করবে এআই।
স্বচ্ছভাবে বেঞ্চ বণ্টনের দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর।
চাকরি নিয়ে আশঙ্কা?
অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, এতে কি মানুষের কর্মসংস্থান কমবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই এখানে কেবল একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভুল বা দুর্নীতির সম্ভাবনা কমানো। এটি কোনোভাবেই বিচারকের রায়দানের ক্ষমতা বা আইনজীবীর আইনি লড়াইয়ের জায়গা নেবে না। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে এটি কার্যকর হলে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হবে।