অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে অনেক সময়ই দেখা যায় প্রেসক্রিপশনে লেখা ৫টি ট্যাবলেটের জন্য বাধ্য হয়ে ১০ বা ১৫টির পুরো স্ট্রিপ কিনতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ে এবং বাড়তি ওষুধ নষ্ট হয়। এবার এই সমস্যার সমাধানে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ড্রাগ কনসালটেটিভ কমিটির (DCC) সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রস্তাব উঠেছে যে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে ওষুধের সংখ্যা যতগুলো থাকবে, ফার্মেসি থেকে ঠিক ততগুলোই ওষুধ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে।
তবে এই জনমুখী প্রস্তাব ঘিরেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD)। দেশের বৃহত্তম কেমিস্ট সংগঠনটি ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেলকে চিঠি লিখে একগুচ্ছ উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, স্ট্রিপ কেটে ওষুধ বিক্রি করলে ব্যাচ নম্বর বা এক্সপায়ারি ডেট মুছে যেতে পারে, যা রোগীর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি, অবিক্রিত ওষুধ কোম্পানি ফেরত না নিলে ব্যবসায়ীরা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। সমাধান হিসেবে তারা কোম্পানিগুলোকে ছোট প্যাকেট তৈরির পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি একটি সাব-কমিটির অধীনে রয়েছে, যারা লেবেলিং ও সুরক্ষা বিধি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে। একদিকে সস্তায় ওষুধ পাওয়ার আশায় রোগীরা, অন্যদিকে অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা—দুই পক্ষের দড়িটানাটানিতে এখন নজর গোটা দেশের।





