এপ্রিলের শেষেই বাংলায় নরেন্দ্র মোদী! হাইপ্রোফাইল ভবানীপুর কেন্দ্রে কি বড় কোনো চমক দিতে চলেছেন পিএম?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন যে, এবার নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি ঘটবে ভবানীপুরে। এই আবহে শুভেন্দুর সেই ‘পাখির চোখ’ পূরণ করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ময়দানে নামছেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এপ্রিলের ২৪ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে কলকাতায় পা রাখতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার এই হাই-প্রোফাইল আসনটি।

শুভেন্দুর তুরুপের তাস যখন মোদী: শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের গড়েই হারানো সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে মোদীর একটি মেগা রোড-শো এবং জনসভার আবেদন জানিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ২৪-২৭ এপ্রিলের সময়সীমা নিয়ে প্রাথমিক সম্মতি মিলেছে। ওই সময় দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কলকাতায় কয়েক কিলোমিটার লম্বা এক ঐতিহাসিক রোড-শো করতে পারেন নরেন্দ্র মোদী, যা মূলত ভবানীপুর এবং সংলগ্ন রাসবিহারী ও বালিগঞ্জ এলাকাকে কভার করবে।

বিজেপির প্রচার কৌশল: বিজেপি এবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের চেয়েও বেশি জোর দিচ্ছে দুর্নীতির ইস্যু এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষের বঞ্চিত হওয়ার ওপর। মোদীর এই সফরে ‘বিকাশ’ এবং ‘সুরক্ষা’—এই দুই মন্ত্রকেই হাতিয়ার করা হবে। উত্তর কলকাতায় ইতিমধ্যেই মোদীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, এবার দক্ষিণ কলকাতার শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মন জয় করতে মোদীকে দিয়ে বড় কোনো মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

তৃণমূলের পালটা হুঙ্কার: প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ভোটের বসন্তে কোকিলরা আসবেই। কিন্তু বাংলার মানুষ জানেন বিপদে কার পাশে থাকতে হয়।” ভবানীপুর যেহেতু খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র, তাই সেখানে মোদীর প্রচারকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে না ঘাসফুল শিবির। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে মোদীর উপস্থিতি এবং হিন্দুত্ব ও উন্নয়নের মিশ্রিত ভাষণ ইভিএমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy