এনডিএ-র অন্দরে চরম সংঘাত! কোটা নীতি নিয়ে পরস্পরের পদত্যাগ দাবি করলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

সংরক্ষণ ব্যবস্থায় উপ-বিভাগ এবং ‘ক্রিমি লেয়ার’ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান এবং জিতন রাম মাঞ্জির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। এনডিএ জোটের এই দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ এবং একে অপরের পদত্যাগের দাবিতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
এই বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (সেকুলার)-এর সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতন রাম মাঞ্জির পুত্র সন্তোষ কুমার সুমন সংরক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যে তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য উপ-বিভাগ তৈরির দাবি তোলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, সংরক্ষণের প্রকৃত সুবিধা সমাজের সর্বনিম্ন স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, তাই কোটা নীতি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট অংশ সংরক্ষণের সিংহভাগ সুবিধা পেলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকে এখনও বঞ্চিত রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা সুর চড়ান লোক জনশক্তি পার্টির (এলজিপি) প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান। তিনি স্পষ্ট জানান, জিতন রাম মাঞ্জি ও তাঁর পুত্র যদি এসসি সংরক্ষণের মধ্যে উপ-কোটা এবং ‘ক্রিমি লেয়ার’ চালুর পক্ষে এতই সওয়াল করেন, তবে তাঁদের নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। চিরাগের মতে, তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হলো সামাজিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার মতো ঐতিহাসিক পরিস্থিতি। এটিকে নিছক অর্থনৈতিক মানদণ্ডে বিচার করা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।
চিরাগের এই মন্তব্যের পরই আসরে নামে জিতন রাম মাঞ্জি। তিনি পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন যে, চিরাগ পাসওয়ান সাধারণ গরিব মানুষের স্বার্থের কোনো পরোয়া করেন না। বর্তমান ব্যবস্থায় বহু দরিদ্র মানুষ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দাবি করে মাঞ্জি জানান, বৃহত্তর জনস্বার্থেই সংরক্ষণের পুনর্বিন্যাস বা উপ-বিভাগের ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনডিএ শিবিরের দুই মন্ত্রীর এই মুখোমুখি অবস্থান বিরোধী দলগুলির হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে।