এনকাউন্টারে নিহত শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার মাড়বী হিডমা! স্ত্রী ও অনুগামী-সহ অন্ধ্রপ্রদেশের জঙ্গল থেকে উদ্ধার দেহ

মাওবাদী কার্যকলাপে বড়সড় ধাক্কা লাগল। মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশ-ছত্তীসগঢ় ও ওড়িশার সংযোগস্থলে, অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারামারাজু জেলার মারেডুমিলী জঙ্গল থেকে শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার মাড়বী হিডমা (বয়স ৫১) এবং তার স্ত্রী রাজে ওরফে রাজাক্কা-সহ মোট ছয় জনের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে এদিন হিডমার যাবতীয় কার্যকলাপে ইতি পড়ল।

কীভাবে এনকাউন্টার:

পুলিশ জানিয়েছে, ছত্তীসগঢ় থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল হিডমা, তার স্ত্রী এবং আরও চার মাওবাদী। এই খবর পেয়ে এদিন সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে জেলা পুলিশ জঙ্গল ঘিরে ফেলে। এতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং শেষে হিডমা-সহ বাকিদের দেহ উদ্ধার হয়। দণ্ডকারণ্য-সাউথ বাজার জোনের সবচেয়ে দক্ষ যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিল হিডমা। বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে তার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকার বেশি

হিডমার পতনের নেপথ্যে:

বেশ কয়েক মাস ধরেই মাওবাদী সংগঠনের মধ্যে নেতৃত্বসঙ্কট এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের খবর শোনা যাচ্ছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাসে নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজ-এর মৃত্যু এবং অক্টোবরে মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে ভূপতি-র আত্মসমর্পণের ফলেই হিডমার মর্মান্তিক পরিণতি নিশ্চিত হয়ে যায়।

  • নেতৃত্বসঙ্কট: বাসবরাজের মৃত্যুর পর পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ফাটল ধরে। ভূপতিকে সকলে আদর্শবাদী নেতা হিসেবে দেখলেও তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে সাময়িক বিরতি ঘোষণা করে অনুগামীদের নিয়ে আত্মসমর্পণের রাস্তা বেছে নেন।

  • সমঝোতায় ফাটল: ভূপতি সরকারের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিলে বিভাজন আরও চওড়া হয়। এরপরই হিডমা ও তার অনুগামীরা সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিতে উদ্যোগী হয়।

  • গুপ্তচরবৃত্তি: ভূপতি আত্মসমর্পণ করার পরই গোয়েন্দারা হিডমাকে নাগালে পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। সেই কাজে সাহায্য় করে হিডমার একদা বিশ্বস্ত অনুগামী, People’s Liberation Guerrilla Army-এর ১ নং ব্যাটেলিয়নের সদস্য ওয়াম লখমু, যে অক্টোবরেই আত্মসমর্পণ করেছিল। সে-ই ২৫০ ক্যাডারকে নিয়ে হিডমার তেলঙ্গানায় ঢোকার খবর দেয়।

২০২১ সালে মিলিন্ত তেলতুম্বড়ের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘নকশালমুক্ত ভারত’ গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। এরপর থেকে দলে দলে মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করে। এবছরই ১৩০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে এবং সেনা ও পুলিশি অভিযানে ৩০০-র বেশি মাওবাদী নিহত হয়েছে। ২০১০ সালের দান্তেওয়াড়া হামলা-সহ কমপক্ষে ২৬টি প্রাণঘাতী হামলার চক্রী হিডমার পরিণতিতে মাওবাদী সংগঠন জোর ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।