এনআইএ-র জালে বেলডাঙার অশান্তি, রাজ্য মামলা প্রত্যাহার করতেই নড়েচড়ে বসল হাইকোর্ট!

রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় আইনি বাঁকবদলের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। তৃণমূল সরকারের আমলে বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অশান্তির ঘটনায় এনআইএ (NIA) তদন্তের বিরোধিতা করেছিল তৎকালীন রাজ্য প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৎকালীন রাজ্য সরকার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল। তবে বিজেপির নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় এনআইএ-র তদন্তের পথে সমস্ত আইনি বাধা অপসারিত হলো।

শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মামলা প্রত্যাহারের কথা জানায়। ফলে এখন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র তদন্তে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না। তবে এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইউএপিএ (UAPA) আইনের প্রয়োগ। বেলডাঙার অশান্তিতে এই কঠোর আইন কার্যকর করা হবে কি না, তা এখন কলকাতা হাইকোর্টের বিবেচ্য বিষয়। আদালত এনআইএ-কে আগামী দশদিনের মধ্যে একটি সাপ্লিমেন্টারি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই রিপোর্টে সংস্থাটিকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, তাদের হাতে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কীভাবে ইউএপিএ আইন এই মামলায় বলবৎ করা যেতে পারে। মামলার পরবর্তী শুনানি ৩০ জুন নির্ধারিত হয়েছে।

এনআইএ-র আইনজীবী অরুণ মাইতি আদালতে জানান, গত শুনানির পর তদন্তে বেশ কিছু নতুন নথিপত্র এবং তথ্য উঠে এসেছে, যা ইউএপিএ আইন যুক্ত করার বিষয়টি আরও জোরালো করেছে। আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে এটাই শেষ সুযোগ দিয়েছে তাদের দাবির সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপনের জন্য। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে, মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায়ও তদন্তের গতি বাড়াল হাইকোর্ট। বিডিও অফিসে বিচারকদের ঘেরাও করার ঘটনার তদন্ত কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে এনআইএ-কে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। এই মামলায় যারা নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, তাঁদের কোন যুক্তিতে জামিন দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখার জন্য রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।

উল্লেখ্য, মোথাবাড়িতে এসআইআর অ্যাডজুডিকেশনের সময় ভোটার নথি যাচাই করার কাজ চলাকালীন বিডিও অফিসের বাইরে বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, মিম নেতা তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম এই ভিড়কে উসকে দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। বেলডাঙা এবং মোথাবাড়ি—উভয় স্পর্শকাতর মামলার পরবর্তী শুনানি ৩০ জুন অনুষ্ঠিত হবে, যা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy