মহিলা সংরক্ষণ বিল দ্রুত কার্যকর করার আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো চিঠির জবাবে পাল্টা তোপ দাগলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। স্রেফ সমর্থন নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের পেছনে থাকা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া ভাষায় চিঠি লিখলেন তিনি। খাড়গের দাবি, এই বিলটি নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের পরিবর্তে স্রেফ একটি নির্বাচনী কৌশলে পরিণত হয়েছে।
খাড়গের চিঠিতে ঠিক কী আছে?
মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর চিঠিতে মোদি সরকারকে আক্রমণ করে মূলত তিনটি বিষয় তুলে ধরেছেন:
‘প্রকৃত ক্ষমতায়ন বনাম প্রতীকী রাজনীতি’: খাড়গে লিখেছেন, “মহিলাদের ৩২ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। যদি সরকার সত্যিই নারীদের ক্ষমতায়ন চাইত, তবে ২০২৪-এর নির্বাচনেই কেন এটি চালু করা হলো না?”
ওবিসি (OBC) কোটার দাবি: কংগ্রেস সভাপতির কড়া প্রশ্ন, সংরক্ষিত আসনের ভেতরে পিছিয়ে পড়া তথা ওবিসি মহিলাদের জন্য আলাদা কোটা রাখা হয়নি কেন? তাঁর মতে, ওবিসি কোটা ছাড়া এই বিল অসম্পূর্ণ এবং বৈষম্যমূলক।
জনগণনার জট: সরকার এখন ২০২৯-এর লক্ষ্যমাত্রা দিলেও খাড়গের দাবি, ২০১১ সালের সেন্সাস বা জাতিভিত্তিক জনগণনা ছাড়া এলাকা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সম্ভব নয়। ফলে এই বিল কার্যকর হওয়া নিয়ে সরকারের আন্তরিকতাতেই তাঁর সন্দেহ রয়েছে।
“অপেক্ষা কেন?” প্রশ্ন কংগ্রেসের
খাড়গে সরাসরি মোদিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন যে, সংসদীয় বিধি মেনেই বিলটি পাস হয়েছিল, কিন্তু ইদানীং সরকার যেভাবে ‘ডিগবাজি’ খেয়ে তড়িঘড়ি চিঠি লিখছে, তা আসলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারী ভোট টানার একটি কৌশল মাত্র। তাঁর ভাষায়, “নারীদের অধিকার নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করে সরকার আগে জাতিভিত্তিক জনগণনার কাজ শেষ করুক।”
আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ
বিজেপি অবশ্য খাড়গের এই চিঠির জবাবে বলেছে, কংগ্রেস নেতিবাচক রাজনীতি করছে এবং নারী প্রগতিতে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শরিকরা একজোট হয়ে ওবিসি কোটার দাবিতে অনড় থাকার সংকেত দিয়ে রেখেছে।
আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা বিশেষ অধিবেশনে এই চিঠি-যুদ্ধের রেশ যে বড়সড় সংঘাতের জন্ম দেবে, তা এখন নিশ্চিত।





