এখনও পাননি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা? এই ভুলের কারণে আটকে নেই তো আপনার পেমেন্ট?

আগস্ট মাস শেষের পথে এবং এর মধ্যেই রাজ্যের এক কোটিরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার কিস্তি ঢুকে পড়েছে বলে খবর। তবে এই সাফল্যের মাঝেও বহু যোগ্য উপভোক্তা এখনও টাকা না পাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কবে নাগাদ তাঁদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পৌঁছাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যাঁদের নাম তালিকায় থাকার সত্ত্বেও এখনও টাকা ঢোকেনি এবং যাঁরা এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁদের আবেদনপত্রগুলি আগামী ৩১ অগস্টের পর নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে। তথ্য যাচাই ও ত্রুটি সংশোধনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তাই টাকা না পেয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারি সূত্রের দাবি, উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হচ্ছে ধাপে ধাপে। সেই কারণেই সবার অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে টাকা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। নিজের আবেদনের বর্তমান স্থিতি বা স্ট্যাটাস নিয়মিত ট্র্যাক করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

অন্নপূর্ণা যোজনার পুরো টাকাই পাঠানো হয় সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে, অর্থাৎ ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে। তাই আপনার নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় রয়েছে কি না, তা দ্রুত নিশ্চিত করে নেওয়া দরকার। এই ব্যবস্থায় কোনো যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলে টাকা জমা হতে স্বাভাবিকভাবেই দেরি হতে পারে। পাশাপাশি, যাঁদের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাঁদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কোন অ্যাকাউন্টটি আধার-সংযুক্ত এবং ডিবিটি পরিষেবার জন্য সক্রিয় রয়েছে, তা ভালোভাবে যাচাই করে নিন। অনেক সময় অসাবধানতাবশত অন্য কোনো নিষ্ক্রিয় বা প্রাথমিক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই নিয়মিত ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বা লেনদেনের বিবরণ পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয়।

এর পাশাপাশি, আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং মূল আবেদনপত্রে দেওয়া নাম বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে সামান্য অমিল থাকলেও পেমেন্ট আটকে যেতে পারে। অ্যাকাউন্টটি আধারের সঙ্গে সঠিকভাবে লিঙ্ক করা আছে কি না এবং সমস্ত তথ্য নির্ভুল রয়েছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করে নেওয়া দরকার। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা এই প্রকল্পের অধীনে আবেদনকারীরা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে তাঁদের আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস পরীক্ষা করতে পারেন। স্ট্যাটাস চেক করলে বোঝা যাবে আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং টাকা পাঠানোর বিষয়ে কোনো নতুন আপডেট এসেছে কি না।

সবচেয়ে বড় কথা, সমস্ত প্রক্রিয়া মেনে চলার পরেও যদি টাকা না পাওয়া যায় কিংবা আবেদনে কোনো জটিল সমস্যা দেখা দেয়, তবে উপভোক্তারা সরাসরি নিজ নিজ এলাকার বিডিও অফিস বা স্থানীয় পুরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া অনলাইনে গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল পোর্টালের মাধ্যমেও নিজেদের অভিযোগ নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।