ভাগ্যের চাকা কখন কোন দিকে ঘোরে, তা বোঝা দায়। ফ্লোরিডার ৩৬ বছর বয়সী এরিকা মেসের জীবন যেন কোনো এক ভৌতিক সিনেমার চিত্রনাট্য। যে পা একদিন জিমন্যাস্টিকসের মঞ্চে ছক ভাঙত, এক সকালে ঘুম থেকে উঠে এরিকা দেখলেন সেই পা দুটো যেন আস্ত পাথরে পরিণত হয়েছে। বুকের নিচ থেকে শরীরের কোনো অংশেই আর কোনো অনুভূতি নেই। ২০২১ সালের সেই অভিশপ্ত সকালের কথা আজও ভুলতে পারেন না তিনি।
একটি রাত এবং বদলে যাওয়া জীবন:
এক সময় এরিকা ছিলেন একজন সফল জিমন্যাস্টিকস কোচ এবং রেস্তোরাঁ ম্যানেজার। কিন্তু মাদকের মরণনেশা তাকে ঠেলে দেয় অন্ধকারের অতল গহ্বরে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিত্তবান এরিকা এক সময় গৃহহীন হয়ে পড়েন এবং রাস্তার ধারের ব্রিজের নিচে রাত কাটাতে শুরু করেন। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আগের রাতে প্রচণ্ড জ্বর এবং কাঁপুনির শিকার হন তিনি। কোনোমতে সেই রাতে বিশ্রামের জন্য একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু জানতেন না সেই ঘুমই তার জীবনের শেষ স্বাভাবিক ঘুম হতে চলেছে।
চিকিৎসায় উঠে এল ভয়াবহ তথ্য:
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, এরিকার রক্তপ্রবাহে ‘এমআরএসএ’ (MRSA) নামক একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া বাসা বেঁধেছে। এই সংক্রমণ মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে একটি ফোঁড়ার সৃষ্টি করেছিল, যা তার স্পাইনাল কর্ডকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করে দেয়। বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে পায়ে গরম ও ঠান্ডা পানি ঢালেও কোনো কাজ হয়নি; সংক্রমণ ততক্ষণে তাকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে।
নার্সিং হোমে নতুন লড়াই:
শারীরিক সক্ষমতা হারানোর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এরিকা দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি নার্সিং হোমে বয়স্কদের সাথে দিন কাটাচ্ছেন। তবে এরিকা আর হার মানতে রাজি নন। দীর্ঘ দুই বছরের চিকিৎসার পর তিনি এখন ছোটখাটো কাজ করতে পারছেন এবং টিকটকের মাধ্যমে নিজের সংগ্রামের কাহিনী বিশ্ববাসীকে জানাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি সেইসব অসহায় মানুষদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চান, যারা নার্সিং হোমে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে ধুঁকছেন।





