বাংলার তখত কার দখলে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আর মাত্র এক মাসের অপেক্ষা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। একদিকে ক্ষমতায় টিকে থাকার মরণপণ লড়াই তৃণমূল কংগ্রেসের, অন্যদিকে এক দশক ধরে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা বিজেপির সর্বশক্তি প্রয়োগ। গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বর্তমান জনমতের পাল্লা কোন দিকে ভারী, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
তৃণমূলের মূল অস্ত্র ‘বাংলার মেয়ে’ এবং জনকল্যাণ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল বাজি তাদের সামাজিক প্রকল্পগুলো। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’ এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’র মতো প্রকল্পগুলো গ্রামীণ বাংলার মহিলাদের মধ্যে তৃণমূলের ভিত মজবুত করেছে। সম্প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমো আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেছেন যে, তারা ২২৬-এর বেশি আসন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবেন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সবত্রই ‘বাংলার মেয়ে’ আবেগ এবং উন্নয়নের প্রচারকে হাতিয়ার করেছে ঘাসফুল শিবির। বিশেষ করে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিজেপিকে কোণঠাসা করার পুরনো কৌশল এবারও তাদের অন্যতম ঢাল।
বিজেপির চ্যালেঞ্জ ও হিন্দুত্ব তাস: অন্যদিকে, বিজেপি এবার অনেক বেশি সুসংগঠিত। ২০১৯-এর লোকসভা এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে গেরুয়া শিবির এবার আরজি কর ইস্যু এবং দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে চেপে ধরেছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো অভিজ্ঞ নেতার ওপর ভরসা রেখে বিজেপি চাইছে হিন্দু ভোট এককাট্টা করতে। তারা দাবি করছে, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চায়। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় স্তরে ‘মোদীর গ্যারান্টি’ এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে বিজেপি।
পাল্লা এখন কার ভারী? সাম্প্রতিক কিছু জনমত সমীক্ষা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াই হবে সমানে সমানে। যদিও তৃণমূল দক্ষিণবঙ্গের দুর্গ এবং সংখ্যালঘু ভোটের ওপর ভর করে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, তবে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে বিজেপির উত্থান শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভোটারদের মৌন থাকা এবং শেষ মুহূর্তের ইস্যুগুলোই নির্ধারণ করবে কার মাথায় উঠবে বাংলার মুকুট। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে, এখন দেখার ২ মে ইভিএম বক্স খোলার পর শেষ হাসি কে হাসেন।