এক বছর পর দেশে ফেরা! দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে লড়াই জিতে ফিরলেন সুইটি বিবি ও তাঁর সন্তানরা

দীর্ঘ এক বছরের আইনি লড়াই ও চরম মানসিক যন্ত্রণার অবসান। অবশেষে ভারতের মাটিতে পা রাখলেন বীরভূমের পাইকর গ্রামের বাসিন্দা সুইটি বিবি এবং তাঁর দুই নাবালক সন্তান। গত বছর জুন মাসে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়ে সীমান্ত পার হতে হয়েছিল যাঁদের, অবশেষে বুধবার মালদহের মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হলো। তাঁদের সঙ্গেই দেশে ফিরেছেন সোনালি বিবির স্বামী দানেশ শেখও।

কী ঘটেছিল গত বছর?
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর জুনে। কাজের সন্ধানে দিল্লি গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকর গ্রামের সোনালি বিবি ও সুইটি বিবির পরিবার। তাঁদের দাবি, ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও ১৭ জুন তাঁদের গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে ভুল করা হয় এবং ২৬ জুন অসম সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়।

জেলবন্দি জীবন ও লড়াই:
বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরেই স্থানীয় পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে। টানা ১০০ দিনের বেশি সময় তাঁরা বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। এই ঘটনার পর আইনি লড়াই গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সোনালি বিবি তখন অন্তঃসত্ত্বা থাকায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিষয়ে মানবিক নির্দেশ দিয়েছিল, যার ফলে গত বছর ডিসেম্বরে সোনালি দেশে ফিরে এলেও তাঁর স্বামী দানেশ শেখকে পাওয়া যায়নি। আজ দানেশ ও সুইটি বিবিদের ফেরাতে পারায় স্বস্তিতে পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীরা।

স্বস্তিতে পরিবার:
দীর্ঘ ১২ মাস পর প্রিয়জনদের ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সুইটি বিবির দিদি ও পরিবারের অন্যান্যরা এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তবে এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রশাসনিক গাফিলতি ও অমানবিক ‘পুশব্যাক’-এর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

বর্তমানে দেশে ফেরার পর তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।