এক বছরে ১ লক্ষ সরকারি চাকরি! নন্দীগ্রামের মঞ্চ থেকে বিরাট ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর!

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে এসে রাজ্যের নিয়োগ জট এবং কর্মসংস্থান নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা তথা হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী জনসভার এক বিশাল মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে, আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে নিয়োগ সংক্রান্ত বহু জটিলতা ইতিমধ্যেই সফলভাবে কাটিয়ে তোলা হয়েছে। আর এর মাধ্যমেই খুব শীঘ্রই রাজ্যে বেকার যুবকদের জন্য চাকরির দুয়ার খুলতে চলেছে। তাঁর এই বিস্ফোরক ঘোষণায় কর্মপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা কাটিয়ে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।
প্রচারমঞ্চ থেকে হুঙ্কার দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আদালতের সমস্ত আইনি জট ও জটিলতা কাটিয়ে আমরা জুতসই পথ বের করেছি। খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল ও অন্যান্য পদে বিপুল পরিমাণে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, আগামী এক বছরের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে মোট এক লক্ষ শূন্যপদে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ করা হবে বলে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিগত দিনে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই এই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ প্রচারে দাঁড়িয়ে তাঁর এই মেগা চাকরির প্রতিশ্রুতির জেরে গোটা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে যখন বিরোধী শিবিরের এই বড় রাজনৈতিক অস্ত্রকে ঘিরে তরজা তুঙ্গে, অন্যদিকে তখন দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গোনা হাজার হাজার বেকার চাকরিপ্রার্থী ও তাঁদের পরিবার এক নতুন ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সত্যিই আগামী এক বছরে এক লক্ষ বেকারের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া সম্ভব হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।