‘প্ল্যান বি নয়, সবসময় প্ল্যান সি তৈরি রাখত!’ ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সহকর্মী

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’ (FZ1073) বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলা এবং বিমান ধ্বংসের চেষ্টার বিরুদ্ধে চরম সাহসিকতা দেখিয়ে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় সৌদি আরবের তাবুক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) এয়ারলিফ্ট করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।

স্মিত মচ্ছারের এই বীরত্বকে সম্মান জানিয়ে গুজরাট সরকারের তরফে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘বিশিষ্ট গুজরাট গরিমা পুরস্কার’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। স্পাইসজেট থেকে কেরিয়ার শুরু করে খুব অল্প বয়সেই দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন স্মিত। ৩০ বছর বয়সী এই তরুণ পাইলটের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ চালানোর ১৩ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ের কমার্শিয়াল পাইলট হিসেবে কাজ করছেন।

নিউজিল্যান্ডের ‘মেনল্যান্ড এয়ার’-এ স্মিতের সঙ্গে একসঙ্গে উড়ানের প্রশিক্ষণ নেওয়া সহকর্মী ক্যাপ্টেন ধবল প্যাটেল তাঁর উপস্থিতি বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ধবল প্যাটেল বলেন, ‘‘ককপিটে স্মিত সবসময়ই পরিস্থিতির নিরিখে অত্যন্ত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। সাধারণ প্রশিক্ষণে পাইলটদের কেবল ‘প্ল্যান বি’ তৈরি রাখতে শেখানো হয়, কিন্তু স্মিতের মাথায় সবসময় ‘প্ল্যান সি’ থাকত।’’

সহকর্মীর মতে, রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় যেভাবে তিনি নিজেকে সিটবেল্ট থেকে মুক্ত করে ককপিটের দরজা খুলে সাহায্য চেয়েছিলেন এবং হাইজ্যাকিং সংকেত পাঠিয়েছিলেন, তা সত্যিই নজিরবিহীন। জীবন বাজি রেখে দেখানো এই অসম সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও দেশবাসী।

Pratik Saha
  • Pratik Saha