একের পর এক ধাক্কা পার করে ২৫ বছর ধরে ক্ষমতার শীর্ষে! জেনেনিন নরেন্দ্র মোদীর ‘আনকাট’ পলিটিক্যাল লাইফ

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যখন নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি এক বছরও পদ টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। কারণ তার আগের পাঁচ বছরে রাজ্যে চারজন মুখ্যমন্ত্রী বদলেছিল, আর মোদী না ছিলেন কোনো প্রভাবশালীদের জাতিগোষ্ঠীর নেতা, না লড়েছিলেন কোনো নির্বাচন। তবে সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি আজ এক শতাব্দীর চতুর্থাংশ জুড়ে ভারতীয় রাজনীতির মূল শক্তি হয়ে উঠেছেন। এমনকি সিপিএম নেতা জ্যোতি বসুর দীর্ঘ ২৩ বছর ক্ষমতায় থাকার ইতিহাসও আজ তাঁর সাফল্যের কাছে ম্লান।
রাজনীতিতে এই দীর্ঘ যাত্রায় মোদীকে কম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়নি। ২০০২ সালের গোধরা কাণ্ড ও পরবর্তী দাঙ্গার কারণে তিনি কংগ্রেস ও বামপন্থীদের তীব্র আক্রমণের নিশানায় আসেন। দিনের পর দিন সিবিআই জেরার মুখোমুখি হওয়া থেকে শুরু করে আমেরিকার ভিসা বাতিল—সব জটিল পরিস্থিতি তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অতিক্রম করেছেন। সমালোচকদের আক্রমণ থেকে শক্তি সঞ্চয় করে তিনি গুজরাটকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যান এবং ‘ভাইব্রেন্ট গুজরাট’ ও ‘গুজরাট মডেল’-এর জন্ম দেন, যা তাঁকে সর্বভারতীয় নেতায় পরিণত করে।
আজ মোদীর জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠী নয়। বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা, অনুচ্ছেদ ৩৭০ রদ এবং রাম মন্দির নির্মাণের মতো মাইলফলক তাঁর শাসনকালেই অর্জিত হয়েছে। নারী, যুব, দরিদ্র ও কৃষকদের ওপর কেন্দ্র করে পরিচালিত তাঁর নীতিই আজ ভারতকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত করার পথে মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।