‘একতরফা ভালোবাসার খেসারত কেন নেপাল দেবে?’-চিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন, সাফাই দিল বেজিং

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় বিপুল প্রাণহানির নেপথ্যে এবার সরাসরি চিনকে কাঠগড়ায় তুলল নেপালের একাধিক অনুসন্ধানী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের জোরালো দাবি, এটি নিছক কোনো প্রাকৃতি বিপর্যয় নয়, বরং তিব্বতের গিরং এলাকায় বেজিংয়ের অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ এবং পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক নদীপথ বন্ধ করার ফল। যদিও এই বিস্ফোরক দাবির সপক্ষে এখনো কোনো শক্তপোক্ত প্রমাণ মেলেনি, তবুও আন্তর্জাতিক মহলে এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

নেপালের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মঞ্চ ‘নেপাল করেসপন্ডেন্স’-এর এক্স (X) হ্যান্ডেলে দাবি করা হয়েছে, চিনের নিয়ন্ত্রণে থাকা তিব্বতের গিরং শহরটি ত্রিশূলী নদীর প্রাকৃতিক গতিপথের ঠিক উপরেই গড়ে তোলা হয়েছে। সংবেদনশীল হিমালয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করার ফলেই প্রতি বছর তুষারধস ও হড়পা বানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে নেপালকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘উকেরা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বতের কেরুং কাউন্টিতে বন্যা আঘাত হানার প্রায় ৪৫ মিনিট পর তা নেপালের ভোটকোশি নদী দিয়ে ধেয়ে আসে। কিন্তু এত বড় একটি বিপর্যয় ঘটার পরেও চিন প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালকে বিন্দুমাত্র আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি বলে অভিযোগ। নেপালি সাংবাদিক পরশুরাম কাফলে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে লিখেছন, নেপাল বরাবর প্রতিবেশীর নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিলেও চিন তাদের অবহেলা করেছে। একতরফা বন্ধুত্বের চড়া মূল্য কেন নেপালকে দিতে হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে চিন দাবি করেছে, এটি কোনো মানবসৃষ্ট ত্রুটি নয়, বরং একটি বিশাল হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার ফলেই এই আকস্মিক দুর্যোগ নেমে এসেছে। নেপালে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং মাওমিং জানিয়েছেন, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই বিপর্যয়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং নিখোঁজদের উদ্ধার ও ত্রাণ সরবরাহের কাজ দ্রুত চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একদিকে প্রলয়ঙ্কারী বন্যার জেরে যখন মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে, ঠিক তখনই বেজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে দানা বাঁধা এই বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।