আসছে আইফোন ১৮ প্রো! আকাশছোঁয়া দাম দেখে কি সত্যি পকেট ফাঁকা হতে চলেছে অ্যাপলপ্রেমীদের?

আগামী মাসেই বিশ্বজুড়ে লঞ্চ হতে চলেছে অ্যাপলের বহু প্রতীক্ষিত নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন—আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স (iPhone 18 Pro & Pro Max)। তবে যারা এই অত্যাধুনিক প্রিমিয়াম ডিভাইসটি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে একটি বড় ধাক্কা। প্রযুক্তি মহলের গুঞ্জন ও ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ মেমরি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দাম লাগাতার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই আসন্ন আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম বাড়িয়ে দিতে পারে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। এর আগে ম্যাক এবং আইপ্যাডের মতো জনপ্রিয় প্রোডাক্টগুলোর দাম গড়ে প্রায় ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল সংস্থাটি। এবার সেই একই পথে হেঁটে আইফোনের দামেও বড়সড় উল্লম্ফন দেখা যেতে পারে।
আইফোন ১৮ প্রো-এর সম্ভাব্য দাম ও বাজারের পরিস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা যেমন গুগল এবং স্যামসাং ইতিমধ্যেই তাদের নতুন ফোনগুলির দাম প্রায় ১০০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পুরো পরিস্থিতির ওপর কুপার্টিনোর টেক জায়ান্ট অ্যাপলও কড়া নজর রাখছে। ব্লুমবার্গের বিশিষ্ট টেক বিশ্লেষক মার্ক গার্ম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল যদি এই বর্ধিত বাজারমূল্যের কৌশল গ্রহণ করে, তবে নতুন আইফোন ১৮ প্রো-এর প্রাথমিক দাম শুরু হতে পারে প্রায় ১,১৯৯ মার্কিন ডলার থেকে। অর্থাৎ, পূর্বের মডেলগুলির তুলনায় সরাসরি প্রায় ৯ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ম্যাক বা আইপ্যাডের দাম বৃদ্ধির হারের তুলনায় আইফোনের এই দাম বৃদ্ধি কিছুটা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যন্ত্রাংশের ঘাটতি ও খরচের মাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অ্যাপল হয়তো বাড়তি খরচের একটা বড় অংশ নিজেই বহন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যাতে গ্রাহকদের ওপর সরাসরি অতিরিক্ত চাপের পাহাড় না ভেঙে পড়ে। এছাড়া অ্যাপলের বিশাল ও বিশ্বস্ত গ্লোবাল কাস্টমার বেস বা অনুগত গ্রাহক সংখ্যা থাকার কারণে সংস্থাটি ঝুঁকি নিতে পিছপা হয় না। পাশাপাশি, নতুন ‘আপগ্রেড’ সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করেছে অ্যাপল, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা এককালীন পুরো টাকা না দিয়ে সহজ কিস্তিতে বা ইএমআই-তে (EMI) দাম মেটানোর সুবিধা পাবেন। ফলে এই আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।