একটি চিতা, তিনটি মৃতদেহ আর কেউ এল না! বারাণসীতে মুখার্জি পরিবারের মর্মান্তিক শেষ বিদায় শুনলে শিউরে উঠবেন

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর লাক্সা থানা এলাকার একটি হোমস্টেতে মুখার্জি পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকটি সামনে এল তাঁদের শেষকৃত্যের সময়। ঋণ এবং গুরুতর অসুস্থতায় জর্জরিত এই পরিবারটির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। আত্মীয়-স্বজনরা কেউ এগিয়ে না আসায় সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ অবস্থায় তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

চরম নিঃসঙ্গতায় শেষ বিদায়

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারাণসীর লাক্সা থানা পুলিশ এই পরিবারের মৃত্যুর পর তাঁদের বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। প্রয়াগরাজে বসবাসকারী বিশালের বোন এবং অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউই শেষকৃত্যে উপস্থিত হতে রাজি হননি। পুলিশকে বিশালের বোন স্পষ্ট জানান যে, তাঁর ভাই ও ভাবীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বারো বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। অন্যান্য আত্মীয়দের মধ্যেও কেউ অধ্যাপক কিংবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখতে অস্বীকার করেন এবং দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ জানান।

মৃতদেহ গ্রহণ করার জন্য পুলিশ তিন দিন অপেক্ষা করলেও কোনো আত্মীয় এগিয়ে আসেননি। শেষ পর্যন্ত লাক্সা পুলিশের তত্ত্বাবধানে এবং আমান কবির ট্রাস্টের সমাজসেবী আমান কবিরের উদ্যোগে গত শুক্রবার বারাণসীর হরিশচন্দ্র ঘাটে তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

মৃত্যুর নেপথ্যে ঋণ ও অসুস্থতার লড়াই

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, প্রায় পনেরো বছর আগে মহারাষ্ট্রের রায়গড়ের বাসিন্দা বিশাল মুখার্জি পরিবারসহ সেখানে স্থায়ী হয়েছিলেন। গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসা এবং অন্যান্য কারণে তিনি ও তাঁর পুত্র ঈশান বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রচুর ঋণ নিয়েছিলেন। আর্থিক এই অনটন ও মানসিক চাপের মাঝেই গত ৭ আগস্ট তাঁরা মহারাষ্ট্র থেকে বারাণসীতে আসেন এবং লাক্সা থানার অন্তর্গত একটি গেস্ট হাউসে ওঠেন।

গত ৯ আগস্ট রাতে প্রথমে ৫৫ বছর বয়সী বিশাল মুখার্জির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং বিএইচইউ-এর ট্রমা সেন্টারে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ১০ আগস্ট গভীর রাতে তাঁর ৫২ বছর বয়সী স্ত্রী জয়া মুখার্জি এবং ২৭ বছর বয়সী পুত্র ঈশান মুখার্জি বিষপান করে আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।

জীবদ্দশায় আর্থিক সংকট আর মৃত্যুর পর আপনজনদের চরম নীরবতা—সব মিলিয়ে মুখার্জি পরিবারের এই করুণ পরিণতি বারাণসীর বাতাসে গভীর বিষাদের ছায়া ফেলে গেছে।