‘এই ফর্ম পূরণ করব না’! SIR-কে ‘NRC চালুর কৌশল’ বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া ঘোষণা, রাজ্যে জোর বিতর্ক

রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ শুরু হতেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শাসক দল যেখানে এই প্রক্রিয়াকে ‘এনআরসি চালু করার কৌশল’ বলে অভিযোগ করছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নিজে এই এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করবেন না।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: ‘যতক্ষণ না সাধারণ মানুষ করছেন, তত ক্ষণ আমিও করব না’
গত বুধবার ভবানীপুরে নিজের বাড়িতে ফর্ম নিয়ে বিএলও-রা পৌঁছালেও মুখ্যমন্ত্রী সেই ফর্ম ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেননি বলে খবর। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নিজে কোনও ফর্ম নেননি এবং যত ক্ষণ না রাজ্যের সাধারণ মানুষ ফর্ম পূরণ করছেন, তত ক্ষণ তিনিও এই প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকবেন।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই এসআইআর প্রক্রিয়া রাজ্যে এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস) চালু করার কৌশল। এর প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত ‘মহামিছিল’ করেছে তৃণমূল।

ফর্ম পূরণ না করলেও চলবে, জানাল কমিশন
মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কোনও অসুবিধা হবে না। কমিশন সূত্রে খবর:

‘চিহ্নিত ভোটার’ (Marked Elector): নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘চিহ্নিত ভোটার’ বা ‘মার্কড ইলেক্টর’ শ্রেণিতে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী, সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতা-মন্ত্রীরা এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত।

নিয়মে ছাড়: কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের উচ্চপদস্থ নেতাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তাঁদের আলাদা করে এনুমারেশন ফর্ম পূরণের প্রয়োজন হয় না। ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বাড়িতে পৌঁছেছিল ৪০টি ফর্ম
কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুরের বাড়িতে মোট ৪০টি ফর্ম পৌঁছে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ভোটারদের তথ্য অনুযায়ী ফর্মগুলি দেন বিএলও। মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষা আধিকারিক জয়দীপ জানা ওই ফর্মগুলিতে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর ভাই অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও কমিশনের প্রতিনিধির কাছ থেকে ফর্ম পূরণের নিয়ম বুঝে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিজেপি এই বিতর্কের পাল্টা জবাব দিয়েছে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না, কেবল অনুপ্রবেশকারী ও মৃত ভোটারদের নামই বাতিল করা হবে। তারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ তুলেছে।