এইচ–১বি ভিসায় বিরাট ধাক্কা! লটারি বাতিল, এবার শুধু ‘দক্ষ’ ও ‘উচ্চ বেতনের’ কর্মীরাই সুযোগ পাবেন, তোলপাড় প্রযুক্তি জগৎ!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ–১বি ভিসার নিয়মে আরও এক দফা বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নিয়মের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে ভারত ও চীন, কারণ এই দুই দেশ থেকেই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তি কর্মী কাজ করতে যান। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা। এর মধ্যেই মার্কিন প্রশাসন জানিয়ে দিল, অদূর ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মীদের বাছাই প্রক্রিয়াতেও আসবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

এখন থেকে আর সহজে মার্কিন মুলুকে আসতে পারবেন না কম বেতনসম্পন্ন এবং কম দক্ষ প্রযুক্তি কর্মী ও তাঁদের আত্মীয়রা।

লটারি বাতিল, শুধু উচ্চ বেতন ও দক্ষতার ভিত্তিতে ভিসা
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্যসচিব হোয়ার্ড লুটনিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনেক গলদ রয়েছে। তিনি লটারি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই নিয়মের সত্যিই কোনও অর্থ নেই। এইচ–১বি ভিসা দেওয়ার ১৯৯০ সালের প্রক্রিয়াটি এবার বদলানো প্রয়োজন।”

লুটনিকের যুক্তি, এই ভিসা মূলত প্রযুক্তি পরামর্শদাতাদের দেওয়া হচ্ছে, অথচ ভিসার মূল উদ্দেশ্য তা ছিল না। তিনি বলেন, “আমাদের উচিত শুধুমাত্র দক্ষ ব্যক্তিদের চাকরি দেওয়া।” অর্থাৎ, সংস্থাগুলি এখন থেকে শুধুমাত্র উচ্চ বেতনসম্পন্ন ও অত্যন্ত দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ করতে বাধ্য হবে।

ইতিমধ্যেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ঘোষণা করেছে, প্রচলিত লটারি ব্যবস্থা বাতিল করে একটি নতুন বাছাই প্রক্রিয়া চালু হবে।

নতুন নিয়ম: নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, কর্মীদের নির্ধারিত বেতনস্তরের ভিত্তিতে ভিসা দেওয়ার জন্য বাছাই করা হবে।

সুযোগ বাড়বে: চারটি বেতনস্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে থাকা কর্মীরা চার বার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, যেখানে সর্বনিম্ন স্তরে থাকা কর্মীরা সুযোগ পাবেন মাত্র একবার।

এর অর্থ, উচ্চ বেতনের অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রার্থীরা নির্বাচনে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভাবে এগিয়ে থাকবেন। অন্যদিকে, সদ্য স্নাতক বা নবাগত কর্মীদের সুযোগ কমবে।

ভিসার খরচ ৮০ লক্ষ টাকা!
এই নতুন নিয়মের পাশাপাশি এইচ–১বি ভিসার জন্য মার্কিন সংস্থাগুলির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ ধার্য করা হয়েছে। নতুন করে যাঁরা এইচ–১বি ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন সংস্থাকে প্রায় এক লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা) সরকারকে দিতে হবে।

‘প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল’ চালু
এই ব্যবস্থায় বদল আনতে মার্কিন শ্রম দপ্তর চলতি মাসেই ‘প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করতে চলেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো:

দক্ষ মার্কিন শ্রমিকদের অধিকার, বেতন এবং কর্মসংস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

নিয়োগকর্তারা যাতে কর্মী নিয়োগের সময় যোগ্য আমেরিকানদেরই অগ্রাধিকার দেন, তা নিশ্চিত করা।

এইচ–১বি ভিসা প্রক্রিয়ার জালিয়াতি এবং অপব্যবহার রোধ করা।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই একের পর এক কড়া পদক্ষেপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কম দক্ষ ও কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের জন্য আমেরিকার দরজা এখন সঙ্কুচিত হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হলো।