ভারতের রাস্তার স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে ডিম! চীন কী এমন কৌশল নিল যা ২০ বছর বাড়িয়ে দিল রাস্তার আয়ু, জানুন বিজ্ঞানীদের মতামত!

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় #EggRoadChina হ্যাশট্যাগটি রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, চীন তাদের রাস্তাঘাট নির্মাণে ডিমের খোসার গুঁড়ো ব্যবহার করছে, আর সে কারণেই তাদের রাস্তাগুলি হচ্ছে অত্যন্ত টেকসই। যদিও ভাইরাল ভিডিওগুলিতে (যার সত্যতা যাচাই করা হয়নি) নির্মাণস্থলে ডিম ছোঁড়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কিন্তু ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়।
ভারতের মতো দেশে, যেখানে নতুন রাস্তা কয়েক মাসের মধ্যেই ফাটল ও গর্তে ভরে যায়, সেখানে এই ধারণাটি ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল দাবি বনাম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ
সোশ্যাল মিডিয়া ক্লিপগুলিতে দাবি করা হয়েছে, ডিমের খোসা পিষে সিমেন্টের সাথে মিশিয়ে চীনা ইঞ্জিনিয়াররা শক্তিশালী রাস্তা তৈরি করছেন।
তবে, বেজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত গবেষণা বলছে, ক্যালসিয়াম কার্বনেট সমৃদ্ধ ডিমের খোসা আসলে কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং ফাটল রোধ করতে সাহায্য করে। এই কৌশলটি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার চমক নয়, এটি নির্মাণে বর্জ্য পদার্থ পুনর্ব্যবহারের জন্য একটি বৃহত্তর পরিবেশগত উদ্যোগের অংশ।
চীনের ‘গ্রিন কনস্ট্রাকশন’ সাফল্য
চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিম ব্যবহারকারী দেশ। প্রতি বছর কোটি কোটি ডিম উৎপাদনের ফলে যে বিপুল পরিমাণ খোলসের বর্জ্য তৈরি হয়, এখন তা পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো, সাংহাই-পুডং এক্সপ্রেসওয়ের ৫০ কিলোমিটার অংশ, যা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্মিত। সরকারি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ডিমের খোসার গুঁড়ো ব্যবহার রাস্তার আয়ু গড়ে ৩০ বছর থেকে প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই প্রকল্পটি পরিবেশ মন্ত্রকের ‘গ্রিন কনস্ট্রাকশন’ সার্টিফিকেটও পেয়েছে।
ভারতের জন্য ‘ডিমের গুঁড়ো’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের এই উদ্ভাবন দেশের রাস্তার মান উন্নত করতে পারে। আইআইটি দিল্লির অধ্যাপক ডঃ রাজেশ কুমার পর্যবেক্ষণ করেছেন, “আমাদের দেশ বিশ্বের বৃহত্তম ডিম উৎপাদনকারী। বার্ষিক ১০ লক্ষ টন ডিমের খোসার বর্জ্য উৎপন্ন হয়।”
তাঁর মতে, এই বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে একদিকে যেমন রাস্তাঘাট মজবুত হবে, তেমনই দূষণও কমবে। যদি ভারতে এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রাস্তাঘাটের স্থায়িত্ব এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত বর্জ্য— দুটি দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জের সমাধান হতে পারে।