এআই বাবল বাস্ট? স্যামসাং-এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ধসে বিয়ার মার্কেটে দক্ষিণ কোরিয়া!

এক সময় যা ছিল বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল শেয়ার বাজার, সেই দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার মার্কেট এখন চরম সংকটে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রধান সূচক ‘কোস্পি’ (KOSPI) তার সর্বোচ্চ স্তর থেকে ২০ শতাংশেরও বেশি পড়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিয়ার মার্কেটে’ প্রবেশ করেছে। এই ভয়াবহ পতনে দিশেহারা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা।

কেন এই হঠাৎ পতন? গত জুন মাস পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ২২শে জুন তা সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায়। কিন্তু তার পরেই শুরু হয় বিপর্যয়। গত ৭ই জুলাই বাজারে ৮ শতাংশ এবং ৮ই জুলাই আরও ৫ শতাংশের বেশি পতন রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) বিপ্লবের ওপর ভর করে যেসব কোম্পানির শেয়ার রকেটের গতিতে ছুটছিল, তারাই এখন বাজারের এই পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ধসের নেপথ্যে কারা? দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে দুটি কোম্পানি—স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্স।

  • ৮ই জুলাইয়ের লেনদেনে স্যামসাংয়ের শেয়ার ৬.৩ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ৫.৭ শতাংশ কমে যায়।

  • বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত এক বছরে এই স্টকগুলোর দাম অভাবনীয় হারে বেড়েছিল (এসকে হাইনিক্সের ৬৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি)। এই অস্বাভাবিক মূল্যায়নের ফলেই এখন ‘প্রফিট বুকিং’ বা মুনাফা তুলে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৌরাত্ম্য: বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন শেয়ার বাজারে এআই-সম্পর্কিত স্টকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ পুঁজি তুলে নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি, এই কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ মুনাফা ও বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা: যেসব শেয়ার বিনিয়োগকারীদের সম্পদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল, এখন সেই স্টকগুলোই বাজারের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া এই বাজারের ধাক্কায় পুরো এশিয়ার শেয়ার বাজারেই একপ্রকার অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই পতনের রাশ টানা না গেলে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।