নয়াদিল্লি [ভারত]: দিওয়ালির আলোর রেশ কিছুটা স্তিমিত হলেও বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় এখনও সোনার দ্যুতি কমেনি। উৎসবের মরসুমের কেনাকাটা শেষ হওয়ার পর প্রধান প্রশ্নটি এখন এটাই—সোনার দাম কি এবার কমবে, নাকি আরও বৃদ্ধির পথে?
এই প্রশ্নের উত্তরে একটি বড় পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা এইচএসবিসি (HSBC)। তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে সোনার ঊর্ধ্বমুখী গতি সহসা কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ইতিমধ্যেই প্রতি আউন্সে $৪,৩০০ ডলার অতিক্রম করেছে। ১৮ অক্টোবর, এটি প্রায় $৪,৩৬২ ডলারে (প্রায় ২৮ গ্রাম) লেনদেন হয়েছে, যা বাজারে সোনার প্রতি স্থিতিশীল বুলিশ মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
সূত্র: এশিয়ানেট নিউজএবল (Asianet Newsable)
২০২৬-এর লক্ষ্য $৫,০০০! কেন দাম বাড়ার পূর্বাভাস?
এইচএসবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎসবের ভিড় কমার পরেও সোনার দাম তার গতি বজায় রাখবে। ব্যাঙ্কটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যেই সোনার দাম প্রতি আউন্সে $৫,০০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। এটি বর্তমান স্তর থেকে প্রায় ১,০০০ ডলারের বেশি বৃদ্ধি।
এই বিশাল বৃদ্ধির পূর্বাভাসের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ: ১. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত। ২. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা। ৩. দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ: দ্রুত মুনাফার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীরা সোনাকে নিরাপদ সম্পদ (Safe Asset) হিসেবে দেখছেন এবং তাতেই বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
এর আগে এইচএসবিসি ২০২৫ সালের জন্য সোনার গড় মূল্য $৩,৩৫৫ ডলার অনুমান করেছিল, যা এখন বাড়িয়ে $৩,৪৫৫ ডলারে সংশোধিত হয়েছে। একইভাবে, ২০২৬ সালের জন্য তাদের অনুমান $৩,৯৫০ ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে $৪,৬০০ ডলার করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি বাজারের একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে, যেখানে ক্রেতারা দাম বাড়লেও মুনাফা তুলে না নিয়ে সোনা ধরে রাখছেন।
কেন আকাশ ছুঁচ্ছে সোনার দাম?
শুধুমাত্র উৎসবের চাহিদা নয়, একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ এই মূল্যবৃদ্ধিতে অনুঘটকের কাজ করছে। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ (TOI)-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পিছনে রয়েছে:
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের রিজার্ভ বৃদ্ধি: বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি তাদের সোনার সঞ্চয় বাড়িয়ে তুলছে।
গোল্ড-ব্যাকড ইটিএফ (ETF)-এ বিনিয়োগ বৃদ্ধি: গোল্ড-ব্যাকড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে বিনিয়োগ বাড়ছে।
মার্কিন সুদের হার কমানোর জল্পনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা সোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
নিরাপদ আশ্রয়ের সম্পদ: বৈশ্বিক বাণিজ্য বিরোধের সঙ্গে যুক্ত অনিশ্চয়তা সোনাকে নিরাপদ-আশ্রয়ের সম্পদ হিসেবে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।
সম্প্রতি, স্পট গোল্ড ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দ্রুততম সাপ্তাহিক বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে, যা $৪,৩০০ ডলারের উপরে পৌঁছেছে। এইচএসবিসি মনে করে, ২০২৬ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত দাম এই উচ্চ স্তরেই থাকবে, যদিও ওই বছরের শেষার্ধে কিছুটা সংশোধন হতে পারে।
অন্যান্য শীর্ষ ব্যাঙ্কও একই পূর্বাভাস দিচ্ছে
এইচএসবিসি একা নয়, ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা (Bank of America) এবং সোসাইটি জেনারেলে (Societe Generale)-ও আগামী বছরের জন্য $৫,০০০ ডলার প্রতি আউন্সের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, এএনজেড ব্যাঙ্ক (ANZ Bank) আশা করছে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সোনা $৪,৬০০ ডলারে পৌঁছবে এবং তারপর ধীরে ধীরে কমবে।
বিশ্বের প্রধান ব্যাঙ্কগুলির এই ধরনের পূর্বাভাস ইঙ্গিত দেয় যে দিওয়ালির পর সোনার দামে বড় কোনো পতন ঘটার সম্ভাবনা নেই।
সোনার দামের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি কি আপনার বিনিয়োগের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য করছে?