উৎসবের দিনগুলিতেও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের

আসন্ন দুর্গাপূজার সময় হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতির কারণে প্রসূতি এবং শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অতীতে এমন গাফিলতির কারণে বেশ কিছু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

১১ দফা নির্দেশিকা জারি
স্বাস্থ্য ভবন রাজ্যের সব মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালের জন্য একটি ১১ দফা নির্দেশিকা জারি করেছে। এতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যদি হাসপাতালের গাফিলতির কারণে কোনো প্রসূতি বা শিশুর মৃত্যু হয়, তাহলে দায়ী চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্দেশিকার মূল বিষয়গুলো হলো:

২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক: হাসপাতালে সারাক্ষণ চিকিৎসক উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদের একজন চিকিৎসককে অবশ্যই থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি: জেলা হাসপাতালগুলিতে সবসময় একজন সিনিয়র স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিটি সিজার অপারেশনের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিওলজিস্টকে উপস্থিত থাকতে হবে।

ডিউটি রোস্টার: স্ত্রীরোগ, শিশুরোগ ও অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসকদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ আগামী দুই মাসের ডিউটি রোস্টার স্বাস্থ্য ভবনে জমা দিতে হবে।

ডায়াগনস্টিক ও ব্লাড ব্যাংক: পিপিপি মোডে চলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ব্লাড ব্যাংক ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

জরুরি পরিষেবা: পর্যাপ্ত সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স এবং ‘নিশ্চয়যান’ সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে। জরুরি ওষুধের মজুত নিশ্চিত করতে হবে।

ছুটিতেও নজরদারি: পুজোর সময় স্ত্রীরোগ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা বিদেশ ভ্রমণে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য এলাকা ছেড়ে যেতে পারবেন না।

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই নির্দেশিকা অমান্য করলে কঠোর শাস্তি অনিবার্য।