মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের আঁচ এবার সরাসরি ভারতীয় গৃহিণীদের হেঁশেলে। ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবার পিছু হটে পুরনো পথেই হাঁটল কেন্দ্র। রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কেরোসিন ও কয়লা ব্যবহারের অনুমতি দিল মোদী সরকার। কিন্তু চাহিদ তুঙ্গে থাকায় হু হু করে বাড়ছে এই নীল তেলের দামও।
সিলিন্ডারের বদলে কেরোসিন: কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। মূলত রেশন দোকান এবং পিডিএস (PDS) ব্যবস্থার মাধ্যমে এই তেল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। যেখানে গত এক দশকে উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে কেরোসিন মুক্ত ভারত গড়ার ডাক দেওয়া হয়েছিল, সেখানে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পুনরায় কেরোসিন ফিরিয়ে আনাকে ‘জরুরি পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
কেন এই আকাল? হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারতে এলপিজি আমদানিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। অনেক জায়গায় বুকিং করার ২১ দিন পরেও সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ। রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোতে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই ছোট হোটেল থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের রান্নাঘর—সবখানেই এখন কেরোসিন স্টোভ আর কয়লার উনুন ফিরে আসছে।
চড়চড়িয়ে বাড়ছে দাম: চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে বাজারে কেরোসিনের দামও আকাশছোঁয়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লিটার প্রতি কেরোসিনের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে খোলা বাজারে এই তেলের কালোবাজারি রুখতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বিপাকে সাধারণ মানুষ। একদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মার্চ মাসে প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানির খরচও এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।